ভাগ্য পরিবর্তন করতে ধানের শীষে ভোট দিন: তারেক রহমান

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচনি প্রচারের দ্বিতীয় দিন ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেক বিআরবি মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন এসেছে।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়।’ কী পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ চায় তাদের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, সুশাসন, শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ পায়। লাখ লাখ কর্মহীন তরুণ ও যুবসমাজ কর্মসংস্থান চায়।’ তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি এই জনগণের পাশে কারা দাঁড়িয়েছে।

কাজেই আমরা যদি অতীতের সব কাজ বিবেচনা করি, দেখব এ দেশের মানুষ একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেটে দুই অলির মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ১৬ ঘণ্টার ভ্রমণে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুট্টাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জনসভায় বক্তব্য দিয়ে ভোররাতে তিনি বাসায় ফেরেন।

আগামীকাল সকালে চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে ফের প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান। এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।

এদিকে ভাসানটেকের জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান একজন ভ্যানচালক, নারী শ্রমিক ও একজন কলেজছাত্রীকে ডেকে মঞ্চে আনেন। একে একে তাঁদের কাছে জানতে চান ভাসানটেক এলাকায় কী কী সমস্যা আছে। এ এলাকার কী কী উন্নয়ন করতে হবে।

তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমিও এ এলাকায় বড় হয়েছি। আপনাদেরই একজন। আমি এ এলাকায় প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা হয়েছে, পুনর্বাসনসহ সব সমস্যার সমাধান করব। এ এলাকার সন্তান হিসেবে এটুকু ওয়াদা করে গেলাম।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এক বোন বলে গেছেন তাঁর সঙ্গে কী হয়েছে। আমরা অতীতে যেতে চাই না। বিগত ১৬ বছর কী হয়েছে দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, উপস্থিত এ জনসভার মানুষ নয়, সমগ্র দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। সবার সঙ্গে আমিও চাই মানুষের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ পায়। লাখ লাখ তরুণ ও যুবসমাজ কর্মহীন। তারা বেকার সমস্যার সমাধান চায়। এই যে কজন মানুষ আপনাদের হয়ে কথা বলেছেন তাদের কথায় বেরিয়ে এসেছে কর্মসংস্থান দরকার। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি দেশের বহু মানুষ বিদেশে যায়। এ মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। তাদের বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব যাতে উচ্চ বেতনের চাকরি পায়। স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

এ সময় একটি ফ্যামিলি কার্ড পকেট থেকে বের করে উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এ রকম একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি মায়ের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। যে নারীর একটি সংসার আছে তার কাছে আমরা কার্ডটি পৌঁছে দেব। আমরা একই সঙ্গে দেশের কৃষককে একটি কৃষি কার্ড দিতে চাই। যেটার মাধ্যমে সহজে তারা কৃষিঋণ পাবেন। কৃষি ইন্স্যুরেন্স থাকবে, যার মধ্যে সার-বীজ পাবেন।’

পাশে বসা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমিনুল হক ফুটবল খেলতেন। আমাদের দেশের তরুণ-যুবক যারা আছেন সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবেন না। এখানে অনেকে আছেন খেলোয়াড় হতে চান। আমরা দেশের ক্রীড়াব্যবস্থা এমনভাবে ঢেলে সাজাব যাতে ছেলেমেয়েরা পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে জীবিকা অর্জন করতে পারেন। সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়তে হবে। দেশের প্রতিটি খাত বিগত ১৬ বছরে ধ্বংস হয়েছে। ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয় তাহলে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন তাহলে এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। বিগত ১৬ বছরে যে আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছিল তখন কি নির্বাচিত তথাকথিত এমপির কাছে আপনারা সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছিলেন? যাওয়া সম্ভব হয়নি। সেজন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন যদি চান তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণ কী চায় এমপিদের অবশ্যই জানতে হবে। জবাবদিহি থাকতে হবে। আজকে আমি যেভাবে আপনাদের সমস্যার কথা জানতে চেয়েছি, আমার প্রত্যাশা জনপ্রতিনিধি যারা নির্বাচিত হবেন, এভাবে জনগণের কাছে গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করবেন। পরে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ এলাকার মূল সমস্যার পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে চাইলে অবশ্যই আগামী দিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে।’

এ সময় উপস্থিত সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষ যতবার নির্বাচিত হয়েছে, ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। একই সঙ্গে অনুরোধ করছি, আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে। আপনাদের আত্মীয়স্বজন যারা সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন, তাদেরও অনুরোধ করবেন ১২ তারিখে যেন ধানের শীষে ভোট দেন।’

ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগরী বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, মহানগরী উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ জনসভা হওয়ার কথা ছিল বেলা আড়াইটায়। পরে সময় পরিবর্তন করে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। সরেজমিন দেখা যায়, আসরের নামাজের আগ থেকেই বিআরবি মাঠে বিএনপির নেতা-কর্মী ও ভোটার আসতে শুরু করেন। মাগরিবের আগেই মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হওয়ায় মাঠে অনেকে আসতে পারেনি। তারা আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছে।

এমআই/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বায়ত্তশাসন পায়নি: তৈয়্যব Jan 24, 2026
img
এই সমাজের চাবি-নেতৃত্ব আমরা যুবকদের হাতে তুলে দেব : জামায়াত আমির Jan 24, 2026
img
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হচ্ছে লেবার পার্টি Jan 24, 2026
img
এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না: আফজাল হোসেন Jan 24, 2026
img
দুবাই গিয়ে বহুতল নির্মাণের ব্যবসা করছেন অভিনেত্রী রিমি Jan 24, 2026
img
ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরাইল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Jan 24, 2026
img
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা: রুহুল কবির রিজভী Jan 24, 2026
img
ছবির চিত্রনাট্য পরিচালক প্রযোজক ঠিক না হলে কী করে কাজ করব!: প্রসেনজিৎ Jan 24, 2026
img
দেশের এক ইঞ্চি পরিমাণ সম্মান কারও কাছে বন্ধক দেবো না: জামায়াত আমির Jan 24, 2026
img
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা মাসুদ Jan 24, 2026
img
ঢাকায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস Jan 24, 2026
img
ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২ দিনে ১ হাজার ৪৪৭ টন চাল আমদানি Jan 24, 2026
img
ধর্মঘটে অচল মিনেসোটার মিনিয়াপলিস শহর Jan 24, 2026
img
আওয়ামী লীগকে ফেরাতে আমেরিকা মাস্টারপ্ল্যান করছে : রনি Jan 24, 2026
img
বরুণের ‘বাঁকা হাসি’ নিয়ে ব্যঙ্গ, কোন হুঁশিয়ারি দিলেন করণ জোহর? Jan 24, 2026
img
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে নির্বাচন বানচালের স্বপ্ন জনগণ প্রতিহত করবে: আমীর খসরু Jan 24, 2026
img
সবার ঈমানী দায়িত্ব দাঁড়িপাল্লাকে জয়লাভ করানো: ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির Jan 24, 2026
img
দেশের বাজারে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে রুপা Jan 24, 2026
img
বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর কায়রো, ২য় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা Jan 24, 2026
img
বিএনপির জনসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রামে ড্রোন উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা Jan 24, 2026