আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার হচ্ছে মাছের ডিম। মাছকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলা হয়, তা আমরা জানি। কিন্তু মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। কী আছে এই মাছের ডিমে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ
ভেরিওয়েলফিট ডট কম-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছের ডিমে অল্প পরিমাণে তিন ধরনের ফ্যাট থাকে-স্যাচুরেটেড, পলিআনস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই তিন ধরনের ফ্যাটই শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সাহায্য করে।
মাছের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড (ওমেগা থ্রি) থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
চোখ ও মস্তিষ্কের জন্যও উপকারডিএইচএ (ডিএইচএ) ও ইপিএ (ইপিএ) জাতীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড চোখের রেটিনা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত মাছের ডিম খেলে চোখের দৃষ্টি উন্নত হতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়তে পারে।
এই উপকারিতা বিশেষত শিশু, প্রবীণ ও এমন ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, যারা দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে চান বা তাদের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে চান।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে উপকারী
মাছের ডিমে থাকা উপাদানগুলো হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এটি মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা হৃদয়, চোখ বা মস্তিষ্কের সুস্থতা বাড়াতে চান, তাদের জন্য মাছের ডিম উপকারী হতে পারে। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের সমস্যা বা অন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে, তাদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
এমআই/এসএন