আবার আইনি বিপাকে পড়েছেন বলিউড পরিচালক বিক্রম ভাট। সাড়ে ১৩ কোটি রুপির প্রতারণার অভিযোগে বিক্রম ভাট এবং তাঁর কন্যা কৃষ্ণা ভাটের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের ভার্সোভা থানায় মামলা করা হয়েছে। এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্তভার এরই মধ্যে নিজেদের হাতে নিয়েছে মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জনৈক এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে বিক্রম ও কৃষ্ণা ভাট তাকে বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্প এবং ব্যাবসায়িক উদ্যোগে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান।
বিনিয়োগের বিনিময়ে তাঁকে মোটা অংকের লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁদের কথায় ভরসা করে তিনি ১৩.৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করলেও, প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ তো দূরের কথা, আসল টাকাও ফেরত পাননি। বারবার টাকা ফেরত চেয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
বিষয়টি বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত হওয়ায় ভার্সোভা থানার পাশাপাশি ইকোনমিক অফেন্সেস উইং সক্রিয় হয়েছে।
বিনিয়োগের অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে এবং এই জালিয়াতির সাথে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
বিক্রম ভাটের জন্য আইনি জটিলতা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩০ কোটি রুপি প্রতারণার এক পৃথক মামলায় রাজস্থান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিক্রম এবং তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী। উদয়পুরের একটি ব্যবসায়িক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার করে রাজস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএসপি ছগন পুরোহিত সে সময় জানিয়েছিলেন, “আমরা মুম্বাই থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে উদয়পুরে নিয়ে এসেছি। নথিপত্র পরীক্ষা এবং তহবিলের উৎস খোঁজার কাজ চলছে।”
রাজস্থান মামলায় এখনও তদন্ত জারি রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে নোটিশ পাঠিয়েছে পুলিশ। একদিকে রাজস্থানের মামলা, অন্যদিকে মুম্বাইয়ে নতুন করে সাড়ে ১৩ কোটির প্রতারণার অভিযোগ সব মিলিয়ে বিক্রম ভাট এবং তাঁর পরিবারের ওপর আইনি চাপ উত্তরোত্তর বাড়ছে।
কেএন/টিকে