কর্তৃপক্ষের কোনও প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছেন বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের (বিআইএফপিসিএল) উচ্চপদস্থ ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে তাদের না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ।
পূর্বানুমতি ছাড়া এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
প্ল্যান্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে খাবারের টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানা যায় তারা কাউকে না জানিয়েই প্ল্যান্ট থেকে বের হয়ে গেছেন। এদিন দুপুরের দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তাদের ভারতে ঢোকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এভাবে চলে যাওয়াটি রহস্যজনক। চলে যাওয়ার আগে তারা কখনোই নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও অভিযোগ বা উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানান নি। এমন ঠুনকো অজুহাতে হুট করে দেশ ত্যাগ করায় কর্তৃপক্ষ বিস্মিত।
চলে যাওয়া ৯ কর্মকর্তা হলেন, ন্যাশনালথারর্মার পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) ভারত থেকে পেশনে পাওয়ার প্লান্ট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের কর্মরত, জি এম সিউজ প্রতিম বর্মণ, জিএম বিশ্বজিৎ মণ্ডল, জিএম এন-সুরায়া প্রকসা রায়, এজি এম কেসাবা পলাকী ডিজিএম সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, ডিজি এম সুরেন্দ্র লম্বা এ জি এম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজি এম অনির্বাণ সাহা সিএফ ও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘সকালে ডাইনিংয়ে তাদের না পাওয়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তারা অনুমতি ছাড়াই ভারতে চলে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কী কারণে তারা এভাবে চলে গেলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আইকে/টিএ