দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার বিজয়, যিনি ‘থালাপতি’ উপাধিতে রাজত্ব করেছেন রূপালি পর্দায়, এখন পরিণত হয়েছেন তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মঞ্চের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে। বিশাল ভক্তশ্রেণি নিয়ে তিনি সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন।
বিজয় প্রতিষ্ঠা করেছেন তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামের রাজনৈতিক দল। দলের প্রতীক হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন বাঁশি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিজয় তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। মোদীর বিজেপি দল মূলত হিন্দুত্ববাদ ও কেন্দ্রীকরণের রাজনীতি করে, কিন্তু বিজয়ের দল ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায় ও বামপন্থার আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে। এই আদর্শগুলো স্থানীয় রাজনীতিতে মোদীর নীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
রাজনীতির মঞ্চে নেমে বিজয় নানা জটিলতা ও কূটচালার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি তার সিনেমা নিয়েও বিজেপি শাসিত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের খবর আসে। তবে তিনি দমে যাননি।
অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে আলোচিত ‘জন নায়াগন’ এই ছবির মাধ্যমে বিজয় সম্পূর্ণ রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। যদিও সিনেমাটির মুক্তি ৯ জানুয়ারিতে নির্ধারিত ছিল, সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারণে তা আটকে আছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন ছবির রাজনৈতিক সংলাপ এবং স্পর্শকাতর দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে। বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, এসব বাদ দিলে তবেই মুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে বিজয় কোনো আপস করতে নারাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সংলাপ ও দৃশ্যই সিনেমার প্রাণ, এগুলো বাদ দিলে মূল বার্তা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালানোর সিদ্ধান্তও তিনি নিয়েছেন। আগামী ২৭ জানুয়ারি মাদ্রাজ হাইকোর্টে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা।
রাজনৈতিক মহলে টিভিকের সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার। রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিজয় দলের প্রতীক হিসেবে বাঁশি উন্মোচন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিনেমার মুক্তি নিয়ে এই জটিলতার পেছনে আছে নির্বাচনী সমীকরণ, কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক চাপ। বিজয়ের শেষ সিনেমা এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
এমকে/টিএ