ভিকি কৌশল ও তৃপ্তি দিমরি জুটি যে মানদণ্ড তৈরি করেছে, তা সাম্প্রতিক হিন্দি ছবির আলোচনায় আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। তাঁদের পর্দার রসায়ন ছিল তীব্র আবেগে ভরপুর, স্বতঃস্ফূর্ত এবং নিঃসংকোচ। সংলাপহীন নীরব মুহূর্তও দর্শকের মনে প্রশ্ন, কৌতূহল আর আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার পর স্বাভাবিকভাবেই নজর গিয়ে ঠেকেছে নতুন ছবি ‘ও রোমিও’-তে। প্রশ্ন একটাই-এই ছবিতে শহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরি কি সেই জাদু ফিরিয়ে আনতে পারবেন, নাকি সম্পর্কের রসায়নকে একেবারে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবেন।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ও রোমিও’ আগের কোনও সফল রসায়নের অনুকরণে হাঁটছে না। বরং এই ছবির শক্তি তার ভিন্নতায়। পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের ভাবনায় নির্মিত এই ছবিতে নেই হালকা রোমান্স কিংবা খেলাচ্ছলে উষ্ণতার আবহ। গল্পের ভেতর ঢুকে আছে অন্ধকার, তীব্রতা এবং চরিত্রের মানসিক স্তরভেদ। সম্পর্ক এখানে আরামদায়ক নয়, বরং অস্বস্তিকর ও চ্যালেঞ্জিং।
শহিদ কাপুরের অভিনয় বরাবরই পরিচিত ভেতরের দ্বন্দ্ব, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার জন্য। এই ছবিতেও তাঁর চরিত্রে সেই দিকগুলো আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এই অস্থির আবহ তৃপ্তি দিমরি একজন অভিনেত্রী হিসেবে আরও জটিল ও আবেগঘন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। সহজ সম্পর্কের বদলে এখানে তৈরি হতে পারে চাপা উত্তেজনা আর দমবন্ধ করা টান।
তৃপ্তি দিমরি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, সহশিল্পী ও ছবির জগত অনুযায়ী নিজের অভিনয়ের শক্তি তিনি বদলে নিতে পারেন। শহিদের সঙ্গে তাঁর রসায়ন হয়তো জনতুষ্টিমূলক উন্মাদনায় ভরা হবে না। তবে তা হতে পারে অস্বস্তিকর, ভীতিকর এবং গভীরভাবে দর্শকের মনে গেঁথে যাওয়ার মতো। এই ধরনের সম্পর্কই ‘ও রোমিও’ ছবির আবহ ও গল্পের সঙ্গে বেশি মানানসই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই জুটি আগের কোনও সফল রসায়ন নতুন করে তৈরি করতে চায় না। বরং দর্শককে দিতে পারে আরও বিপজ্জনক, আরও গভীর এবং দীর্ঘদিন মনে থেকে যাওয়ার মতো এক অভিজ্ঞতা। কারণ সব সময় রসায়ন মানে শুধু ঝলমলে আবেগ নয়। কখনও কখনও সেই রসায়ন গড়ে ওঠে এমন এক উত্তেজনা থেকে, যা সহজে ছেড়ে যেতে চায় না।
এমআই/এসএন