ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণে ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই মিলিয়ন (২০ লাখ) সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কেউ নিহত, আহত বা নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার একটি মার্কিন থিংক ট্যাংকের প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে আনুমানিক মোট ১.২ মিলিয়ন হতাহতের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার জন নিহত হয়েছে।
সংস্থাটি আরো উল্লেখ করেছে, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কোনো যুদ্ধে এত হতাহতের কাছাকাছি পৌঁছায়নি। রাশিয়ান বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে।’
ইউক্রেনীয় বাহিনীও বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সেখানে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ হতাহত হয়েছে।
যার মধ্যে এক লাখ থেকে থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার নিহত হয়েছে (২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত)।
সিএসআইএস জানিয়েছে, ‘রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয়দের সম্মিলিত হতাহতের সংখ্যা ১৮ লাখেরও বেশি হতে পারে এবং ২০২৬ সালের বসন্ত নাগাদ মোট হতাহতের সংখ্যা দুই মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে।’
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছিলেন, ২০২২ সাল থেকে তার দেশ প্রায় ৪৬ হাজার সেনা হারিয়েছে।
বিবিসির রাশিয়ান পরিষেবা এবং মিডিয়াজোনা আউটলেট উপলব্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করে চার বছরের যুদ্ধে নিহত রুশ সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি বলে জানিয়েছে।
যদিও তারা স্বীকার করেছে, প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরো বেশি।
যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা ২০২২ সাল ছাড়া অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেশি বেসামরিক মৃত্যুর রেকর্ড করেছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার অফিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তারা আরো উল্লেখ করেছে, জাতিসংঘ ২০২২ সাল থেকে প্রায় ১৫ হাজার বেসামরিক মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে, তবে মোট সংখ্যা সম্ভবত অনেক বেশি।
সুত্র : আরব নিউজ
এমআই/এসএন