টেলিভিশনের পর্দায় অর্চনা পূরণ সিং মানেই প্রাণখোলা হাসি। নব্বইয়ের দশকে সিনেপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘মিসেস ব্রিগেনজা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে আশির দশকে উত্তরপ্রদেশ থেকে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পা রাখার সময় ইন্ডাস্ট্রিতে তার পথ মোটেই সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অর্চনা পূরণ সিং ক্যারিয়ারের সেই ‘অন্ধকার’ দিনগুলোকে স্মরণ করেছেন।
অর্চনা জানান, মুম্বাইয়ের মতো শহরে টিকে থাকা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। একসময় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে তিনি নিম্নমানের ছবিতেও কাজ করেছেন। বি-গ্রেড ও সি-গ্রেড ছবিতে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার কাছে তখন কোনো বিকল্প ছিল না। সংসারের সব খরচ আমাকে বহন করতে হতো, কারণ আমার স্বামী পারমিত শেঠ তখন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ছিলেন এবং তার তেমন কাজ ছিল না।”
ক্যারিয়ারের শুরুতে বড় কোনো সিনেমায় সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে অর্চনা বলেন, “‘এ গ্রেড’ কোনো সিনেমায় কাজ পাচ্ছিলাম না। বাঁচার তাগিদেই আমাকে বেশ কিছু ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেড সিনেমায় কাজ করতে হয়েছে।” তবে এই ছবিগুলোতে কাজ করা তাকে মোটেও আনন্দ দেয়নি। বরং এক ধরনের গ্লানি এবং হীনম্মন্যতা তাকে তাড়া করত। অর্চনা বলেন, “আমি জানতাম এই ছবিগুলো আমার প্রতিভার প্রতি সুবিচার করছে না, কিন্তু পেট তো প্রতিভা বোঝে না। সেই সময় কেবল ভাবতাম, আমাকে টিকে থাকতে হবে যাতে একদিন ভালো কাজের সুযোগ পাই।”
সেই কঠিন সময় পার করে ১৯৮৭ সালে আদিত্য পাঞ্চোলির বিপরীতে ‘রাত কে গুনাহ’ এবং পরবর্তী সময়ে নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে ‘জালওয়া’ ছবিতে অভিনয় তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ‘অগ্নিপথ’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ এবং ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতে অভিনয় করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা পাকা করেন অর্চনা।
অর্চনা পূরণ সিং অতীতের সেই সংগ্রামকে মনে করে বলেন, “এই সংগ্রামই আমাকে আজকের শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। আমি সেই নব তারকাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা, যারা আজও মুম্বাইয়ে কঠিন সময় পার করছেন।”
অতীতের ‘সি-গ্রেড’ ছবির অধ্যায় মুছে দিয়ে অর্চনা পূরণ সিং আজ বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। উল্লেখযোগ্য, ১৯৯২ সালে বয়সে সাত বছরের ছোট পারমিত শেঠকে বিয়ে করেছিলেন তিনি।
এমকে/টিএ