আমেরিকা। আর এই মহাদেশে ফুটবল রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা দেশের নাম কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা-লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দেশের আবেগের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হলো আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব রিভার প্লেট তাদের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্প শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল স্টেডিয়াম।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় রিভার প্লেটের প্রেসিডেন্ট স্তেফানো দি কার্লো স্টেডিয়াম সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরো গ্যালারির ওপর ছাদ নির্মাণ করা হবে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ঘরের মাঠ মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের এই সংস্কারকাজ শেষ হলে এটি ক্লাব পর্যায়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম হবে। যার ধারণক্ষমতা সংস্কার শেষে ১ লাখ ৫ হাজারে পৌঁছানোর কথা। প্রথম স্থানে থাকবে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যূ।
বর্তমানে ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা থাকা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে যুক্ত হবে আরও ১৬ হাজার আসন। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হচ্ছে ১০ কোটি ডলারের বেশি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা, যা শেষ হতে আনুমানিক ৩৬ মাস সময় লাগবে।
চারবারের কোপা লিবার্তাদোরেস জয়ী রিভার প্লেট এই প্রকল্পে জার্মান একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। ক্লাবটি আশা করছে, আর্জেন্টিনা ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হওয়ার আগেই স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।
এক বিবৃতিতে রিভার প্লেট জানায়, ‘গত এক বছর ধরে রিভার প্লেট কাজ করছে শ্লাইখ বার্গারমান পার্টনার (এসবিপি)-এর সঙ্গে। বৃহৎ স্টেডিয়ামের ছাদ নির্মাণে বিশ্বসেরা এই জার্মান প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এর আগে রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিতানো, টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম, অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা, মারাকানা ও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুসহ একাধিক আইকনিক প্রকল্পে কাজ করেছে।’
দি কার্লো জানান, দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক ঋণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের অর্থায়ন করা হবে, যেখানে সুদের হার থাকবে প্রতিযোগিতামূলক। সংস্কার শেষে স্টেডিয়ামে আয়োজিত ক্রীড়া ইভেন্ট ও সঙ্গীতানুষ্ঠান থেকে বাড়তি আয়ের মাধ্যমেই এই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘রিভার প্লেট আধুনিকায়ন, প্রবৃদ্ধি ও ক্রীড়া অবকাঠামোয় ঐতিহাসিক নেতৃত্বের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে পরিণত হবে।’
এসকে/টিএ