এক সময় যাকে বলা হতো বলিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক, সেই রাজেশ খান্নার জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল অস্থিরতা, ব্যর্থতার ভয় আর দাম্পত্য টানাপোড়েন। সেই অশান্ত সময়ের নীরব সাক্ষী ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিম্পল কপাড়িয়া। খুব অল্প বয়সে, মাত্র পনেরো বছরের ব্যবধানে, রাজেশ খন্নার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ডিম্পল। তখন রাজেশ সাফল্যের শিখরে, আর ডিম্পল একেবারেই অচেনা এক জগতে পা রাখছেন।
বিয়ের পরের প্রথম কিছু দিন স্বাভাবিক থাকলেও খুব দ্রুত বদলে যায় পরিস্থিতি। নামজাদা নায়কের স্ত্রী হিসেবে কীভাবে চলতে হয়, কী নিয়মকানুন মানতে হয় সে অভিজ্ঞতা ছিল না ডিম্পলের। নিজেই স্বীকার করেছিলেন, আজও তিনি জানেন না, তারকা অভিনেতার সংসার সামলানোর আদবকায়দা ঠিক কেমন হওয়া উচিত। সেই অজ্ঞতার মধ্যেই তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল একের পর এক মানসিক চাপ।
বিয়ের পর অভিনয় থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন ডিম্পল। অন্য দিকে, রাজেশ খান্নার পেশাগত জীবনেও শুরু হয় ভাটার টান। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হতে থাকে। সাফল্যের চূড়া থেকে হঠাৎ পতন মানসিকভাবে ভেঙে দেয় অভিনেতাকে। এক সাক্ষাৎকারে রাজেশ নিজেই জানিয়েছিলেন, সেই সময় তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করতেন, ঈশ্বরের সঙ্গে যেন অভিমানী কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তেন। সেই দৃশ্য দেখে ডিম্পল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মনে হয়েছিল, ব্যর্থতা মেনে নিতে না পেরে হয়তো মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন তিনি।
এই আচরণই ধীরে ধীরে সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে। দুই কন্যা টুইঙ্কল ও রিঙ্কির জন্মের পরেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। যদিও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি কখনও, কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত ভেঙেই পড়ে।
রাজেশের কাছ থেকে দূরে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজের জীবন নতুন করে গুছিয়ে নেন ডিম্পল। ফিরে আসেন অভিনয়ে, তৈরি করেন আলাদা পরিচিতি। এক সময় যাঁকে বলা হতো সুপারস্টারের স্ত্রী, তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন শক্তিশালী অভিনেত্রী। রাজেশ খন্নার উত্থান-পতনের ছায়ায় ডিম্পলের যে সংগ্রাম, সেই গল্প আজও বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলির একটি।
পিআর/এসএন