নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে পাঠানোর অনুমতি না দিলেও শুটিং দলকে সফরের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে সরকার।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম জানিয়েছেন, ক্রিকেটের বিশাল বহরের তুলনায় শুটিংয়ের ছোট দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ সেখানে অংশ নিচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং নিরাপত্তার সব দিক পর্যালোচনা করেই এই দুই ভিন্ন খেলার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সচিব মাহবুব উল আলম সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু ক্রিকেটার নন, একটি ক্রিকেট দলের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও সাধারণ দর্শক ভ্রমণ করেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আইপিএল চলাকালীন বোলার মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলার হুমকির পর থেকেই ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার ও বিসিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, শুটিং দলে মাত্র দুজন সদস্য-কোচ শারমিন আক্তার ও শুটার রবিউল ইসলাম-ভারতে যাচ্ছেন বলে তাদের নিরাপত্তা প্রদান অনেক বেশি সহজসাধ্য। সচিবের মতে, এই দুই খেলার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠুও সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ২৫ জন ক্রিকেটার এবং সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের বড় একটি বহরের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া বেশ জটিল কাজ। সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তার স্বার্থে আইসিসির কাছে ভারতের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য বারবার আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তা গ্রহণ করেনি। ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কলকাতার ইডেন গার্ডেনস ও মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে বাংলাদেশের যে ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল, তা এখন অন্য দল খেলবে।
বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় ক্রিকেটারদের যে আর্থিক ও পেশাদার ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দিতে দেশে একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে বিসিবি এই বিশেষ টুর্নামেন্টটি আয়োজন করবে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর ফলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যেমন খেলার মধ্যে থাকবেন, তেমনি বিশ্বকাপের অভাব কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে সরকার আশা করছে। ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় বর্তমান প্রশাসন, আর সেই কারণেই বড় এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এমআই/এসএন