লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুফতী রেজাউল করীম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি দাবি করেন যে জামায়াত ও বিএনপি শরীয়াহ আইনে দেশ না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যা প্রকৃত ইসলামি শাসনের পরিপন্থী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই দেশে শরীয়াহ আইন প্রবর্তন করা হবে।
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন যে জামায়াত ও বিএনপি বারবার দেশে জঙ্গি নেই বলে দাবি করলেও ভেতরে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। তিনি দাবি করেন জামায়াতের একজন শীর্ষ নেতা অতীতে বিদেশি দূতাবাসে ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন যা ইসলামের নামে চরম মিথ্যাচার। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত যেভাবে ইসলাম কায়েম করতে চায় তা প্রকৃত আদর্শ থেকে বিচ্যুত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পর্দা এবং সামাজিক রীতিনীতি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে ভিন্ন লিঙ্গের মানুষের সাথে মেলামেশা বা সেলফি তোলার মতো বিষয়গুলো ইসলামি আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি স্পষ্ট করেন যে নারী ও পুরুষের অবস্থান আল্লাহ আলাদা করে নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলন সেই বিধান মেনেই রাজনীতি পরিচালনা করে।
জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলকে তিনি ইসলামের নামে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেন।
লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মুফতী ফজলুল করীম শাহারিয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন যে কেবল হাতপাখা প্রতীকের মাধ্যমেই দেশে প্রকৃত ইনসাফ এবং ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
এমকে/টিকে