নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ভোলা-৩ আসনের লালমোহন পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করে বলেন, গণসংযোগ চলাকালে সদ্য জামায়াতে যোগ দেয়া উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি মোকলেছের নেতৃত্বে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির চারজন নেতাকর্মী আহত হন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে এর আগে ভোলা-২ আসনের দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা, গঙ্গাপুর ও কাচিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের গণসংযোগে বাধা দেয়া এবং নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভোলা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রথমে নারী কর্মীদের, পরে পুরুষ কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় জামায়াতের ওপর চাপাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শামীম রহমান বলেন, পুলিশ ও নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই স্থানে একাধিক দলের প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এবি/টিকে