কলকাতার অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও হৃতিকা গিরির বিয়ের ছবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণের ব্যক্তিগত জীবন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই সামনে আসে তার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের গুরুতর অভিযোগ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য।
অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি ২০০০ সাল থেকেই আইনত হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের বিয়ের বৈধ প্রশংসাপত্র তার কাছে রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনো আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স কখনো হয়নি।
সেই অবস্থায় হিরণ কিভাবে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনিন্দিতা তার কন্যা নিয়াসাকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা পুলিশের আনন্দপুর থানায় হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, হিরণ ছিলেন চেন্নাইয়ে। সেখান থেকে ফিরেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন তিনি।
আদালত সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে উঠেছে এই মামলা। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তিনি নীরবতা ভাঙেন। হিরণ বলেন, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় শুধু আইনের আদালতেই মীমাংসা হওয়া উচিত, মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে নয়।
আমি মর্যাদা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কথা বলছি, আমি নিয়াসার বাবা, আমার কন্যার প্রতি আমার ভালোবাসা, কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ আমার কাছে সব কিছুর ঊর্ধ্বে। পারিবারিক বিষয়কে প্রকাশ্যে আলোচনা করা আমার আত্মসম্মান ও মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত। গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিবারকে সম্মান করা এবং নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এই সিদ্ধান্তকে সবাই বুঝবেন ও সম্মান করবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি।’
সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে, প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ এবং তার জেরে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি টলিপাড়াতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে আদালতের রায়ই এই জটিলতার চূড়ান্ত দিকনির্দেশ করবে।
এমকে/টিকে