রংপুরের কাউনিয়ায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে লুঙ্গি-শাড়ির সাময়িক সুবিধার সংস্কৃতি থেকে বের করে আনতে হবে। তারা বলেন, ভোট কেনা নয়, নীতি-ন্যায় ও জনস্বার্থের রাজনীতিই হওয়া উচিত ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাউনিয়া গার্লস স্কুল মাঠে আয়োজিত এ নির্বাচনী পথসভায় বক্তারা বলেন, ‘আক্তার হোসেন এমন একজন প্রার্থী, যিনি সাধারণ মানুষের কথা শোনেন, বোঝেন এবং সেই কথাগুলো সংসদে তুলে ধরার মানসিকতা রাখেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক ইস্যুগুলো সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
পথসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মাঠজুড়ে ছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগান ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা। নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য মনিরা হোসেন বলেন, “আক্তার হোসেন ১১ দলীয় জোটের আমানত। সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার থাকবেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা রাখবেন। আমরা এখানে এসেছি পরিবর্তনের পক্ষে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়তে।”
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর কাউনিয়ার মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের একটি সুযোগ পেয়েছে। এই সুযোগের নাম আক্তার হোসেন। ফ্যাসিবাদের সময় যখন অনেকেই নীরব ছিলেন, তখন তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এই আসনে আগে প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রার্থী ছিল না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা কর্মসংস্থানে মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি হয়নি। সেই দায়ভার এখন আক্তার হোসেনকে নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজদের টাকায় নির্বাচন করতে আসিনি। মানুষের জীবনকে জাহান্নাম বানাতে আসিনি। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে রাজনীতি করি। যারা শুধু নির্বাচনের সময় লুঙ্গি-শাড়ি নিয়ে আসে, তাদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করুন।’
সভায় বক্তারা জানান, নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছর আক্তার হোসেন কাউনিয়ার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চান। ভোট কেনার সংস্কৃতি বন্ধ করে পরিকল্পিত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করেন তারা। মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের হাতে ভবিষ্যৎ তুলে না দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আসন্ন গণভোটে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও তাতে কিছু আসে যায় না। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা দেশের রাজনীতিতে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চিরতরে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করতে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য আক্তার হোসেন অতীতেও কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘১২ তারিখ হবে জাতীয় পার্টির জানাজা। এই দিনই কাউনিয়ার মানুষ তাদের রায় জানাবে।’
পথসভায় জামায়াতের নেতা এ টি এম আজম, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের নেতা আব্দুল হালিম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এবি/টিএ