বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে ১৩২৫ জন পাসপোর্টধারী। এ সময় ভারতের সঙ্গে ৪৪৫ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়েছে।
এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১২ লাখ আর বাণিজ্য খাতে প্রায় ৯ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, মঙ্গলবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৫.৫০ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১২৯ টাকা।
প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়।
সোমবার (২ জানুয়ারি) দিনভর ভারত থেকে ৪৪৫ ট্রাক পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ২৯৯ ট্রাকে আমদানি পণ্য ছিল ৫৬৪৭.৯৪৭ মেট্রিক টন। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশুখাদ্য, মেশেনারিজ দ্রব্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য।
এ ছাড়া ব্লিচিং পাউডার ৯ ট্রাক, তরল গ্যাস ২ ট্যাংকার, কাঁচা তুলা ১৫ ট্রাক। এদিকে ফলের মধ্যে ৬ ট্রাকে ১৬৩.৪৪০ টন আনার, ৭ ট্রাকে ২০৪.৫০০ টন কেনু , দুই ট্রাকে ৫৬ টন কমলা ও এক ট্রাকে ৫৬.৮০০ টন মাছ আমদানি হয়।
একই দিনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ১০০ ট্রাকে ৬৯৩. ৮২৭ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, কেমিকেল, মাছ ও ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট,পাটজাত দ্রব, তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয় না।
বন্দরের তথ্য বলছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।
এ দিকে সোমবার বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল জাতীয় আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ২১ থেকে ২২ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, খুলনা ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা।
তবে পচনশীল জাতীয় কাঁচামাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য পরিবহনে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা, খুলনা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি-রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত ৭০ শতাংশ কমে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। এতে চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। এ ছাড়া গেল বছর তার আগের বছরের চেয়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমেছে। বাণিজ্যের পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। একজন পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমণ করতে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণ কর ১০০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হয়। ৫ বছর থেকে ১২ বছরের নিচে যাত্রীদের ৫৬১ টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ক্যানসার, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমণ কর মাত্র ৬১ টাকা।
এ ছাড়া চলতি মাস থেকে নতুন করে ভারত অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ভ্রমণ কর গুণতে হচ্ছে ৪০০ রুপি ও বিদেশিদের ৮০০ রুপি।
সোমবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৪২৭ জন দেশ-বিদেশি পাসপোর্টধারী। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৮২২ জন। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৬০০, ভারতীয় ২২০ ও অন্যান্য দেশের ছিলেন দুজন। এ সময় ভারত থেকে ফিরেছেন ৬০৫ জন। এরমধ্যে বাংলাদেশি ৫০৮ জন ও ভারতীয় ছিলেন ৯০ জন। অন্যান্য দেশের ছিলেন সাতজন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
এ বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলের অন্যান্য পণ্যের আমদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
টিজে/টিকে