ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে পরামর্শ দিয়ে একসময় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা রাম চরণের স্ত্রী উপাসনা কামিনেনী। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আলোচনায় তাঁর বিপুল সম্পদের পরিমাণ। অভিনয় জগতের মানুষ না হয়েও কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন তিনি এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তমহল ও সমাজমাধ্যমে।
তেলুগু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা রাম চরণের সহধর্মিণী উপাসনা মূলত পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি কোনো চলচ্চিত্র বা ধারাবাহিকে অভিনয় করেন না, তবে ব্যবসা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। নারী ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে নানা উদ্যোগে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একটি বেসরকারি হাসপাতাল গোষ্ঠীর সামাজিক দায়বদ্ধতা বিভাগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।
উপাসনার পারিবারিক সূত্রই তাঁর বিপুল সম্পদের প্রধান ভিত্তি। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রতাপচন্দ্র রেড্ডির নাতনি। সেই সুবাদে বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছেন তিনি। তাঁর মা শোভনা কামিনেনীও একই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পারিবারিকভাবে ব্যবসার তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন উপাসনা।
ডিম্বাণু সংরক্ষণ বিষয়ে তরুণীদের পরামর্শ দেওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, এর পেছনে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। যদিও সময়ের ব্যবধানে যমজ সন্তানের জন্ম দিয়ে সেই বিতর্ক অনেকটাই স্তিমিত করেন তিনি। এর আগে তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। বর্তমানে তিন সন্তানের মা উপাসনা সংসার ও কর্মজীবন দুই দিকই সামলে চলছেন।
শুধু পারিবারিক ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নন উপাসনা। নারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি একটি বিমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন। বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বেও যুক্ত আছেন তিনি। এমনকি শাশুড়ির খাদ্য ব্যবসাতেও পরামর্শক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন উপাসনা। বহুমুখী এই ব্যস্ততার কারণেই তাঁকে অনেকেই একাধারে উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী হিসেবে দেখেন।
এমকে/টিএ