বলিউডের ব্যস্ততা আর ঝলমলে জীবন থেকে দূরে, একেবারে ঘরোয়া আবহে কাটল অভিনেতা আমির খানের একটি দিন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের বাড়িতে তাঁর এই সফর ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। আলো–ক্যামেরার চাকচিক্য বা কড়া নিরাপত্তা ছাড়াই দুই তারকার এই সাক্ষাৎ যেন ছিল নিভৃত বন্ধুত্বের এক সরল মুহূর্ত।
রবিবার রাতে মুর্শিদাবাদে পৌঁছান আমির খান। পরদিন সকালে তিনি যান অরিজিৎ সিংয়ের জিয়াগঞ্জের বাড়িতে। সেখানে পৌঁছেই শহুরে ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে একেবারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সময় কাটাতে দেখা যায় তাঁকে। বাড়ির ছাদে উঠে দু’জনে মেতে ওঠেন ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে। হাতে লাটাই, চোখ আকাশে—আমিরের সেই দৃশ্য স্থানীয়দের মনে করিয়ে দেয় শৈশবের দিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘুড়ি ওড়াতে বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন তিনি এবং মাঝেমধ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও ভোলেননি।
এই অনাড়ম্বর আড্ডার সঙ্গে সমানতালে ছিল বাঙালি খাবারের আয়োজন। দুপুরে অরিজিতের বাড়িতে পরিবেশন করা হয় দেশি স্বাদের নানা পদ। সাদা ভাত, নানরুটি, মুরগির মাংস, খাসির কষা, মিশ্র সবজি ও পনিরের তরকারিতে জমে ওঠে মধ্যাহ্নভোজ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিথির পছন্দ মাথায় রেখেই সব আয়োজন করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় কোনো বিশেষ মিষ্টি পরিবেশন করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খাওয়াদাওয়ার ফাঁকেই দীর্ঘ সময় ধরে দু’জনের মধ্যে গান ও সিনেমা নিয়ে আলাপ চলে বলে জানা গেছে। অরিজিতের ব্যক্তিগত স্টুডিওতে নতুন কোনো কাজের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে অরিজিতের গান নির্বাচন ও আমির খানের পরবর্তী চলচ্চিত্র পরিকল্পনা—এই দুই প্রসঙ্গ মিলিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
কেউ বলছেন এটি নিছক বন্ধুত্বের টান, আবার অনেকে মনে করছেন নতুন কোনো চলচ্চিত্রের সংগীত নিয়েই এই সফর। যদিও অরিজিৎ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন তিনি বেশ সতর্ক। তবে পুরোনো প্রতিশ্রুতির কাজগুলো শেষ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে চলতি বছরে তাঁর কণ্ঠে একাধিক নতুন গান শোনার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুম্বাইয়ের চাকচিক্যের বিপরীতে জিয়াগঞ্জের এই সরল মুহূর্তই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। খ্যাতির শীর্ষে থেকেও সাধারণ জীবনযাপন—দুই তারকার এই উপস্থিতি ভক্তদের কাছে আলাদা প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এমকে/টিএ