আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়ে বাংলাদেশের আইনে সুনির্দিষ্ট রয়েছে। বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে।
অসুস্থতাজনিত কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করেছেন। এ অবস্থায় ওই আসনের নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে অথবা হবে কি না তা নিয়ে অনেকের মনে কৌতূহল রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর আলোকে প্রার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত
একনজরে: প্রার্থীর মৃত্যু ও নির্বাচনী আইন
আইন : আরপিও (RPO) ১৯৭২, অনুচ্ছেদ ১৭(১)।
শর্ত: প্রার্থীকে অবশ্যই ‘বৈধ’ বা চূড়ান্ত মনোনীত হতে হবে।
ঘোষণা: রিটার্নিং কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক নির্বাচন বাতিলের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।
ব্যতিক্রম: যদি প্রার্থী চূড়ান্ত বৈধ না হন অথবা বিকল্প প্রার্থী থাকে, তবে নির্বাচন স্থগিত হয় না।
আরপিও আইন ১৭(১) কী বলে?
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত (Validly Nominated) প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।
আইনের মূল পয়েন্টগুলো হলো-
প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়া : প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা : প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিলের ঘোষণা দেবেন।
নতুন তপশিল : সংশ্লিষ্ট আসনে নতুন করে নির্বাচনের জন্য পুনরায় তপশিল ঘোষণা করা হবে।
অপরিবর্তিত প্রার্থী : যারা আগে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল, তাদের নতুন করে ফরম জমা বা জামানত দিতে হবে না। শুধু নতুন প্রার্থীরা সেখানে অংশ নিতে পারবেন।
টিজে/এসএন