বলিপাড়ার ইতিহাসে মুনমুন সেনের নাম এক সময় আলো-ছায়ার মতো সমানভাবে উঠেছিল। তিনি ছিলেন সেই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, যার অভিনয়শৈলী এবং স্ক্রিন উপস্থিতি দর্শকদের মনে রাখার মতো ছিল। কিন্তু কেন আজও তাঁকে “মহানায়িকার ব্যর্থ উত্তরসূরি” বলা হয়, তার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
প্রথমেই বলতে হবে, মুনমুন সেনের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল শক্তিশালী। তিনি ‘সুপারহিট’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, দর্শকরা তাঁকে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া বদলে যায়। ১৯৭০ এবং ৮০-এর দশকে মহানায়িকার মাপ নির্ধারিত হতো শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা নয়, বরং স্টাইল, চরিত্রের গভীরতা এবং বক্স অফিস সাফল্যের সমন্বয়ে। মুনমুন সেন এই তিনটি দিকই পুরোপুরি ধরতে পারেননি।
দ্বিতীয়ত, মুনমুনের ছবি প্রায়ই এক রকম ছিল দর্শকরা নতুনত্ব চাইতেও, তিনি প্রায় একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতেন। অন্যদিকে যেমন রেখা বা হেমা মালিনী নতুন ধারার চরিত্রে চেষ্টা করে দর্শকের মন জিতছিলেন। দর্শক, যারা মহানায়িকার ভক্ত, তারা চাইত আরও গভীর, শক্তিশালী চরিত্র। মুনমুন সেই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত ও পেশাগত দিক থেকে অল্প কিছু বিতর্ক এবং ভুল নির্বাচন তাঁর ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কখনও ছবির প্রযোজক বা পরিচালকের সঙ্গে মতবিরোধ, কখনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা এসব কারণে তিনি বড় ছবির ধারাবাহিক সুযোগ পাননি। ফলে দর্শক মনে রেখেছে একজন ‘দক্ষ কিন্তু অপরিপক্ব’ অভিনেত্রী।
চতুর্থত, প্রমোশনাল বা মিডিয়ায় উপস্থিতি কম থাকাও এক বড় কারণ। অন্য মহানায়িকারা মিডিয়া, পাবলিসিটি এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে ব্র্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠিত করতেন। মুনমুন সেন নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হলেও মিডিয়ায় কম প্রকাশিত হয়েছেন, ফলে তিনি ‘মহানায়িকার ধারাবাহিক উত্তরসূরি’ হিসেবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মুনমুন সেন ছিলেন প্রতিভাবান অভিনেত্রী, কিন্তু সময়, চরিত্রের সীমাবদ্ধতা, এবং মিডিয়ার প্রভাবের কারণে তিনি মহানায়িকার স্থায়ী উত্তরসূরি হতে পারলেন না। তাঁর ক্যারিয়ার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শুধু অভিনয়গুণই নয়, দর্শক ও মিডিয়ার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
পিআর/টিকে