ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার বা সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিষয় নয়; এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কোন পথে চলবে, সেটিই নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি না, সেটিও এই ভোটে নির্ধারিত হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড গ্রিন স্কয়ারে মতবিনিময় সভায় শেখ রবি এসব কথা বলেন।
রবিউল আলম বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং জনগণের ভোটেই সরকার ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, জনগণ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে সংযোগ বা ‘ব্রিজ’ তৈরি হলেই সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিক, সরকার ও জনগণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সেবাখাতে অকার্যকারিতা দেখা দিয়েছে। তিনি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার কার্যক্রমের দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না।
নির্বাচিত সরকার ছাড়া নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে রবিউল বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রে একটি সংকটকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করছে, যাদের জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহি নেই। এ কারণে জনগণের সমস্যা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
গ্যাস সংকট, যাতায়াত সমস্যা এবং অটোরিকশা ব্যবস্থাপনার বিষয়েও কথা বলেন বিএনপি প্রার্থী। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরের প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের নীতিগত অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে রবিউল বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি বা রাজনৈতিক আধিপত্যের সুযোগ দেওয়া হবে না। ভিন্ন মত বা ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন।
বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যায়ের শিকার হলে বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং কেউ যেন বিচার থেকে রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনগণের প্রতি জনপ্রতিনিধির জবাবদিহির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম রবি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঢাকা-১০ আসনের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, নিজেরা ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও ভোটে অংশ নিতে উৎসাহিত করার জন্য।
এসএস/টিএ