আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি। ইশতেহারে রাষ্ট্র রূপান্তরের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, এই ইশতেহার শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের পাথেয়। একাত্তর ও চব্বিশের শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই ১০ দফা বাস্তবায়ন জরুরি।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার পাঠ করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সহসভাপতি ডা. হেলালুজ্জামান আহমেদ, নাগরিক ঐক্য’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের হাবিবুর রহমান রিজু, ভাসানী জনশক্তি পার্টি’র প্রেসেডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস, ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী নুরুল আমিন, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী কবি সাহানা সেলিম, শ্রমিক নেতা আবুল হোসন, যুব বাঙ্গালির কেন্দ্রীয় নেতা তানসেন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ছিল শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। আজও রাষ্ট্র কাঠামোতে উপনিবেশিক এবং বৈষম্যমূলক ধারা রয়েছে। আমরা চাই, অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র, যেখানে শ্রমজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও সাধারণ মানুষ কেবল ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশীদার হবে।
এ সময় ১০দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে ‘তারা’ মার্কায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইশতেহারে উল্লেখিত ১০ দফায় বলা হয়েছে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ হবে ৩০০ সদস্যের। উচ্চকক্ষ হবে ২০০ সদস্যের, যেখানে শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রতিনিধি থাকবে। দেশকে ৯টি প্রদেশে ভাগ করে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জাতীয় ঐকমত্য সরকার গঠন করা হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হবে নিকটতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে। ১৫ শতাংশ ভোটারের লিখিত আবেদনে নতুন আইন প্রণয়নের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত নির্দলীয় বা অদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কাজ করবে। ফেডারেল সরকার ও স্ব-শাসিত উপজেলা পরিষদ গঠন করা হবে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন সরকার, জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল, সাংবিধানিক আদালত, স্থায়ী বিচার বিভাগীয় কাউন্সিল, সংবিধান ও শাসনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম ও জাতীয় সমঝোতা কমিশন এবং পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কাঠামো গঠন করা হবে। এছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি হ্রাস, নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিকল্পিত বনায়ন ও আইনগত বাধ্যবাধকতা প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ফ্রিল্যান্সার সুবিধা নিশ্চিত, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপদ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুব-উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, প্রবাসী বিনিয়োগ, যুব প্রশিক্ষণসহ ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়েছে।
আরআই/টিকে