রাজধানীর শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালসহ আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর আজ সকাল থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহবাগ, কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও আশপাশের এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে এসব এলাকায় সারি সারি জলকামানও সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অবশ্য আজ কাকরাইল, শাহবাগ বা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে কোনো ব্যারিকেড রাখা হয়নি।
দেখা গেছে, সকাল থেকেই এ এলাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় যানচলাচল কম। পথচারীদের সংখ্যাও খুব কম।
এদিকে, হাদি হত্যার ৫৪ দিন পার হলো। এখনো বিচার পাননি স্বজন ও সহকর্মীরা। ফলে বিচারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ। দুপুরের দিকে তারা সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু তাদের বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তারা ব্যারিকেড ভাঙতে চাইলে একপর্যায়ে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রণক্ষেত্রে রূপ নেয় ওই এলাকা।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে।
বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানেও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরে ইনকিলাব মঞ্চের আহত সদস্য সচিব ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচাল করতেই এই হামলা করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা আমাদের এক ভাইকে (হাদি) হারিয়েছি। এরপর আমাদের আর কোনো ভাইকে হারালেও নির্বাচন ১২ তারিখে হতে হবে। নির্বাচন পেছানো যাবে না। তবে নির্বাচনের পরে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার ব্যাপারে সুষ্ঠু কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে শুধু এতটুকু বলব, ‘আমরা তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেব’।
এমকে/এসএন