টলিউডের মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হঠাৎই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আগমন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিনোদন মহলে। কারণটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সদ্য ঘোষিত পদ্ম সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বাংলা সিনেমার এই দীর্ঘদিনের তারকা, আর সেই শুভেচ্ছা জানাতেই তাঁর বালিগঞ্জের বাসভবনে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য রাজনৈতিক দলের সাংস্কৃতিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও। ফুলের তোড়া, মিষ্টি এবং উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানোর পাশাপাশি অভিনেতার হাতে তুলে দেওয়া হয় অযোধ্যার রামলালার প্রতিকৃতি। আর এই উপহার নিয়েই শুরু হয় নানা জল্পনা।
চলচ্চিত্রজগতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রসেনজিতের নাম যখন পদ্মশ্রীর তালিকায় উঠে আসে, তখন থেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসতে থাকে টলিউড। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান ধরে রাখা এই তারকা প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সম্মানটি উৎসর্গ করেন তাঁর মাকে, যিনি তাঁর লড়াইয়ের পথের নীরব প্রেরণা ছিলেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও অসংখ্য দর্শকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। খবর পেয়ে বাবাকেও ফোন করেন অভিনেতা, ভাগ করে নেন আনন্দের মুহূর্ত।
তবে এই সম্মানকে ঘিরে যখন উদ্যাপনের আবহ, ঠিক তখনই রাজনৈতিক আবহাওয়াও ঢুকে পড়ে আলোচনায়। ভোটের আগে তারকার বাড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতি অনেকের কাছেই কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা মতামত, কেউ দেখেন সৌজন্য সাক্ষাৎ, কেউ আবার খোঁজেন অন্য ইঙ্গিত। এই জল্পনার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জবাব দেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, এই সফরের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, এটি নিছকই একজন শিল্পীর প্রাপ্য সম্মান জানানো। তাঁর কথায়, বাংলা সিনেমার সমৃদ্ধিতে প্রসেনজিতের অবদান অনস্বীকার্য, আর সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই স্বীকৃতি।
একদিকে জাতীয় সম্মান, অন্যদিকে রাজনৈতিক আলোচনার ঢেউ দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আবারও শিরোনামে টলিউডের ‘বুম্বাদা’। শিল্পীর সাফল্যকে ঘিরে সৌজন্য সাক্ষাৎ কত দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে, তারই আরেকটি উদাহরণ যেন এই ঘটনা।
পিআর/এসএন