বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না : মির্জা আব্বাস

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান বা আগামীতে যে সরকারই আসুক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় শেষে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি বিশেষ দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি সরকারের একটি মহল কয়েকজনের তালিকা করেছে, যাদের পাশ করাতে হবে। পরিস্থিতি এমন যে, কিছু প্রার্থী ইতোমধ্যে বলছেন তারা জিতেই গেছেন। ভোট পাক বা না পাক, তাদের সংসদে পাঠানো হবে এমন পক্ষপাতিত্ব দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।”

গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দাবিদার এককভাবে কেউ নয়। বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপি আন্দোলনের পথ সুগম করেছে। অথচ এখন অনেকে এমন আচরণ করছেন যেন তারা দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি কিন্তু ক্ষমতার দাবি করিনি। অথচ তখন যারা স্কুল-কলেজে পড়ত, আজ তারাই নানা সুযোগ-সুবিধার দাবি করছে।’

মির্জা আব্বাস দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটগোষ্ঠী এখন পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় রয়েছে এবং তারা নির্বাচনকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে তাড়ানো হয়েছে, এখন ভাবসাব এমন যেন বিএনপিকেও তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিছু মানুষ মনে করছে ক্ষমতা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৮ প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, গত ১৭-১৮ বছর এ এলাকার মানুষ এমপির চেহারা পর্যন্ত দেখেনি। অথচ তিনি প্রতিটি দুর্যোগে ও প্রয়োজনে মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী বা মেয়র থাকাকালে কখনো গুলশানের সরকারি বাড়িতে থাকিনি, যাতে সাধারণ মানুষ অনায়াসে আমার সঙ্গে দেখা করতে পারে।’

রমনা পার্কের উন্নয়ন ও এলাকার মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে তার অতীতের কাজের স্মৃতিচারণা করে তিনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী দিনেও যেকোনো প্রয়োজনে তাকে এক ফোনেই পাওয়া যাবে।

আরআই/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত : ডা. তাহের Feb 07, 2026
img
রহস্যময় পোস্টে সমাপ্তির ইঙ্গিত নীলাঞ্জনার! Feb 07, 2026
img
দিন শেষে ক্রিকেটাররা বঞ্চিত হয়েছে: মাহমুদউল্লাহ Feb 07, 2026
img
নির্বাচন ঘিরে বেশকিছু জায়গায় অস্ত্রের মজুত হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ Feb 07, 2026
img
সাংবাদিকদের মারধর, নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের Feb 07, 2026
img
জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ রুবেলকে হারানোর দুই বছর Feb 07, 2026
img
আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা এই বাংলাদেশ: তারেক রহমান Feb 07, 2026
img
খালেদের ৪ উইকেট, ১৪৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে শান্তর দুর্বার Feb 07, 2026
img
নওগাঁয় নিপাহ ভাইরাসে নারীর মৃত্যু Feb 07, 2026
img
রেকর্ড ছুঁয়ে মালিঙ্গা-সাকিবের পাশে নাম লেখালেন হোল্ডার Feb 07, 2026
img
বৌভাতে ভরপুর বাঙালিয়ানা, নতুন বউয়ের সাজে নজর কাড়লেন প্রিয়াঙ্কা Feb 07, 2026
img
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় আইসিসি Feb 07, 2026
img
বৌভাতে ‘তুই’ থেকে ‘তুমি’, প্রিয়াঙ্কার মিষ্টি খুনসুটিভরা মুহূর্ত Feb 07, 2026
img
এবার সিনেমার নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন মিথিলা! Feb 07, 2026
একটি বিখ্যাত কুসংস্কার। ইসলামিক জ্ঞান Feb 07, 2026
img
আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ Feb 07, 2026
আগামী ২দিন ঢাকায় জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন তারেক রহমান: মাহদী আমিন Feb 07, 2026
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির কত টাকা ক্ষতি হবে Feb 07, 2026
img
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের একাদশ ঘোষণা করল ইংল্যান্ড Feb 07, 2026
img
চলে গেলেন যাত্রাশিল্পের কিংবদন্তি মিলন কান্তি দে Feb 07, 2026