বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম। সৈয়দা তুহিন আরা করিম নামে তার ফেইসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট থাকলেও অভিনেত্রীর পরিচিত নাম-‘অপি করিম’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেইজ রয়েছে। এবার তিনি ভুয়া একাউন্ট নিয়ে বিরক্ত হয়ে ভক্তদের সতর্ক করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক থেকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন অপি করিম। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার নামে নানান একাউন্ট/ পেইজ খুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি ওইভাবে কথা বলি না, লিখিও না।’
অপি লিখেছেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষ আমার নামে নানা অ্যাকাউন্ট বা পেজ খুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। আপনারা যা লিখেন আমার হয়ে, আমি ওইভাবে কথা বলি না, লিখিও না। আমার লেখার সঙ্গে আমার কাছের মানুষ আর অনেক ভক্ত পরিচিত। তাদেরকে আপনারা ওইগুলো “আমার কথা” বলে বিশ্বাস করাতে পারবেন না।’
অভিনেত্রীর নাম ব্যবহার করে যারা লিখেছেন তাদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার যদি এত ইচ্ছা থাকে লিখতে তাহলে নিজের নামে লিখতে বসুন। অন্যকে দিয়ে কেন আপনার মনের কথা বলাচ্ছেন। এত কষ্ট করে লিখছেন, কৃতিত্ব আপনারই প্রাপ্য। মিথ্যার ওপর ভর করে অন্যের নাম দিয়ে লেখার যদি সাহস থাকে, তাহলে নিজের নাম দিয়ে লেখার সাহস দেখান।’
বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে অপির বার্তা, ‘আপনারা এত কষ্ট করে আমার নাম ভাঙিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা থেকে অনুগ্রহপূর্বক নিজেদের বিরত রাখুন! সময় নষ্ট করছেন! তার চেয়ে চোখ বন্ধ করে গল্প শুনুন বা চোখ খুলে বই পড়ুন। প্রযুক্তির অনেক গুণ, ওটা ব্যবহার করি যথাযথভাবে।’
অভিনয় জগৎ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- কোনো জায়গাতেই বর্তমানে তেমন সরব নন অভিনেত্রী। অনলাইনে দেশ-বিদেশের ওটিটিতে সিনেমা-সিরিজ দেখলেও মুঠোফোনে খুব বেশি সরব থাকেন না।
অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে কিন্তু তাতে বিচরণ নেই বললেই চলে। এমনকি আমি পারতপক্ষে মোবাইল ফোনে কোনো কনটেন্ট দেখি না! আয়েশ করে টিভিতেই দেখি। আর হ্যাঁ, ট্রাফিক জ্যামে বসে শুনি ইউটিউব থেকে গল্প, চোখ বন্ধ করে! চোখের আরাম, মনেরও। তাই মনে হয় সময় অনেকটাই বেঁচে যায় আমার।’
নিজের বর্তমান জীবনযাপন সমন্ধে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘আমার জীবনযাপন নিয়ে আমার অনেক আরাম। আমার অনেক বন্ধু নেই, আমি অনেক হট্টগোল পছন্দ করি না। পরিবার, কাজ, বই পড়া, ছবি আঁকা, গাছের যত্ন-আমার সারা দিন কেটে যায়। বোন ভাই আত্মীয়স্বজনের বাইরে থাকার কারণে ফোন বিশেষ প্রয়োজনীয় জিনিস। গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যও অনেক সময় ব্যবহার করতেই হয়। এর বাইরে আমার সঙ্গে ফোন থাকে খুবই কম। হয় ব্যাগেই পড়ে থাকে, নয়তো বাসায় ফোন রেখেই বাইরে বের হয়ে যাই। ফোনে তেমন ছবিও তোলা হয় না, সেলফির অভ্যাস নেই এবং আমার তাতেই শান্তি।’
এসএম