সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফর করবেন। তার এ সফরে সফরসঙ্গী হবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সফরের সময় মন্ত্রণালয়ের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রকল্প সাহায্য ও কারিগরি সহায়তার জন্য সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার পাঁচটি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। রাজধানীর পরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ডিটিসিএ থেকে প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বাকিদের প্রস্তাব আগামীকাল (সোমবার) বা মঙ্গলবার পাওয়া গেলে পুরো হিসাবটা বলা যাবে।’
একই বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপদেষ্টার টকিং নোট হিসেবে এগুলো দেয়া হয়েছে। ডিটিসিএতে যেগুলোর সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোই প্রস্তাবে দেয়া হয়েছে। টাকার অংকটা এখানে আনুমানিক। চীন আগ্রহ দেখালে হয়তো তারা অর্থায়ন করবে।’
ঢাকা মহানগরীর সমন্বিত বাস পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফেজ-২) প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়াদ ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০৩২ সালের জুন পর্যন্ত। এর মাধ্যমে পুরনো বাসের পরিবর্তে সড়কে নতুন বাস নামানো হবে। এসব বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে একটি কর্তৃপক্ষের অধীনে চলাচলের ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভর্তুকি মডেলে জিসিসি (গ্রস কস্ট কন্ট্রাক্ট) চুক্তিতে এসব বাস পরিচালনা করা হবে। বিএমসি (বাস মনিটরিং সেন্টার) ও বিআইএস (বাস ইনফরমেশন সিস্টেম) ইনস্টল করা হবে।
নতুন বিআরটি লেন ও ডিপো স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট ডাটাবেজ স্থাপন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। এর মাধ্যমে বিস্তারিত অধ্যয়ন, বিস্তারিত জরিপ, জিআইএস-ভিত্তিক ডাটাবেজ ও ডাটা সেন্টার তৈরি করা হবে।
স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। চার বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মাধ্যমে চীনা প্রযুক্তির ট্রাফিক সেন্সরস, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে রিয়েল টাইম ট্রাফিক সিগন্যাল এবং মনিটরিং ও কন্ট্রোল সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হবে।
ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইনফরমেশন সিস্টেম প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। চার বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বাস, মেট্রো ও অন্যান্য গণপরিবহনের রুট, সময়সূচি ও রিয়েল টাইম অবস্থান মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে যাত্রীদের সরবরাহ করা হবে।
স্মার্ট মোবিলিটি অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট রেভল্যুশন: স্ট্রেনদেনিং দ্য ক্লিয়ারিং হাউজ অ্যান্ড এক্সপান্ডিং র্যাপিড পাস ফর সিমলেস ক্যাশেস সোসাইটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়াদ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। এর মাধ্যমে পরিবহন খাতে র্যাপিড পাসের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। পরিবহন খাতের বাইরেও র্যাপিড পাসের ব্যবহার শুরু করা হবে। ক্লিয়ারিং হাউজ সিস্টেমের আধুনিকায়ন করা হবে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) উন্নয়নে উইচ্যাট পের সহযোগিতা নেয়া হবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক স্মার্ট টিকেটিং ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা বাড়ানো হবে।
আরএ/এসএন