ভারত ও চীন কানাডার আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে বলে অভিযোগ করেছে কানাডা। ভারত-কানাডা সম্পর্কে দীর্ঘ টানাপোড়েনের মধ্যে এই অভিযোগ করে
২৮ এপ্রিলের আগাম নির্বাচনের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (সিএসআইএস) ডেপুটি ডিরেক্টর অফ অপারেশনস ভেনেসা লয়েড বলেন, বৈরিতাপূর্ণ রাষ্ট্র শক্তি’ ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার জন্য ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কানাডার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার জন্য পিআরসি (গণপ্রজাতন্ত্রী চীন) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সক্ষম সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে।’
লয়েড বলেন, চীন তার স্বার্থ রক্ষায় তাদের মতো করে ন্যারেটিভ (আখ্যান) প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। বিশেষ করে কানাডায় চীনা জাতিগত, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে ‘গোপন এবং প্রতারণামূলক’ উপায়ে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য।
লয়েড আরও বলেন, ‘আমরা আরও দেখেছি যে ভারত সরকারের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্য কানাডিয়ান সম্প্রদায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা এবং ক্ষমতা দুটোই আছে।’
এর আগেও ভারত ও চীনের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনে কানাডা। তবে আগের অভিযোগ অস্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত নতুন অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি এই দুই দেশ।
জানুয়ারিতে, কানাডিয়ান কমিশনের প্রতিবেদনে ‘আশঙ্কা’ প্রকাশ করা হয়, ভারত অটোয়ার নির্বাচনে কয়েকটি বিদেশি সরকারের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে।
এক বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কানাডার হস্তক্ষেপেরও পাল্টা সমালোচনা করেছে।
লয়েড অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া এবং পাকিস্তানও কানাডার সাধারণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো খালিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে নয়াদিল্লির জড়িত থাকার অভিযোগ তোলার পর থেকে ভারত ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
ভারত এই অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এসএন