এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত ভৌতিক সিনেমা ‘জ্বীন ৩’। রহস্য, ভয়ের আবহ আর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতায় মোড়া এই সিনেমার শুটিং হয়েছে কয়েকটি গা ছমছমে লোকেশনে। যেসব জায়গায় অপমৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া জানালেন, শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে তাদের ভেতরে একটা অজানা শঙ্কা কাজ করত। বিশেষ করে শতবর্ষী এক গাছের নিচে শুটিং করার সময় টিমের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল ভয়ের অনুভূতি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফারিয়া। যেখানে অভিনেত্রী বলেছেন, ‘আমরা যখন শুটিংয়ে যেতাম, তখন মনের ভেতর একটা ভয় ছিল যে, যেকোনো কিছু হতে পারে। আমরা শুটিং করেছি একটি বড় গাছের নিচে। গাছটা একশ বছরের পুরনো। সেখানে অপমৃত্যুর ঘটনাও আছে। কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন, পাশে শ্মশান আছে।’
ফারিয়া বলেন, ‘আমার টিমের বিশেষ করে, হেয়ার স্টাইলিস্ট, মেকআপম্যান তারা আমাকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিল। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে তারা রীতিমতো দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিত। কামিজের ওড়নার নিচে একটা রসুন দিয়ে রাখতাম, বা কিছু একটা দিয়ে রাখত যেন কোনো ধরনের খারাপ কিছু না হয়।’
এই সিনেমায় ফারিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আবদুন নুর সজল। তিনিও একই ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন।
এই অভিনেতা বলেন, যে জায়গাটিতে শেষ দৃশ্যের শুটিং করছিলাম, সেটি ছিল একশ’ বছর পুরনো বটগাছের নিচে। জায়গাটা এমনই যে, রাতের অন্ধকার নামলেই গা ছমছম করে।
একটি ঘটনা উল্লেখ করে সজল বলেন, ঠিক রাত সাড়ে চারটা হবে, আমরা শুটিং করছি, হঠাৎ আমাদের টিমের এক সদস্য আচমকা ছিটকে পড়ে গেল! পানিতে ভিজে একেবারে জবুথবু অবস্থা। তাকে তুলে ওপরে নিয়ে গেলে জানাল, কেউ যেন তাকে ধাক্কা দিল! অথচ আশেপাশে তখন কেউ ছিল না। পরে শুনলাম, সেই বটগাছে বহুবছর আগে এক মেয়ে আত্মহত্যা করেছিল।
ফারিয়া প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, নুসরাত ফারিয়া একটু ভীতু স্বভাবের। তার সহকারী তো আরও ভীতু! সে সবসময় ফারিয়ার নিরাপত্তার জন্য কিছু না কিছু করত। লোহার টুকরা, রসুন, সুই—এ জাতীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখত, যেন কোনো বিপদ না হয়। কখনো সেগুলো ফারিয়ার হাতেও ধরিয়ে দিত!
‘জ্বীন ৩’ পরিচালনায় আছেন কামরুজ্জামান রোমান। সুমন নামের একটি ছেলেকে নিয়ে সিনেমাটির গল্প। গতবার একটি মেয়েকে (মোনা) নিয়ে সিনেমাটি তৈরি হয়েছিল। এবার দেখা যাবে একটি ছোট ছেলের গল্প।
এমআর/এসএন