গত মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ক্রিকেট বোর্ড ও অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন সাবেক অলিম্পিয়ান ফৌজিয়া হুদা জুইকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সাবেক তারকা অ্যাথলেট বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচ হিসেবে কর্মরত। বিকেএসপির সম্মতিতে জুই ২১ মার্চ থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের স্ট্রেনথ এন্ড কন্ডিশনিং কোচের কাজ করছেন।
নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইয়ে অংশ নিতে আগামীকাল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে বাংলাদেশ দল। জ্যোতি-সুপ্তাদের সফরসঙ্গী হচ্ছেন সাবেক অলিম্পিয়ান জুইও। ২০০৪ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এসএ গেমসে অংশ নিয়েছেন।
আরো কয়েকবার অ্যাথলেট হিসেবে পাকিস্তান সফর করলেও এই সফরটি একটু ভিন্নই জুইয়ের কাছে, 'এত দিন ব্যক্তিগত ইভেন্টে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে কাজ করেছি। এবারই প্রথম দলীয় কোনো ডিসিপ্লিনের সঙ্গে যাচ্ছি। যা আসলেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ। দলীয় ইভেন্টে টিম বন্ডিং আরো অনেক বিষয় থাকে।'
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জুইকে ছয় মাসের জন্য নারী দলের কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মাত্র দিন দশেক কাজ করেছেন সাবেক এই অলিম্পিয়ান। স্বল্প দিনে নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করে তার পর্যবেক্ষণ, 'এই অল্প সময়ের মধ্যে আমার লক্ষ্য ছিল মেয়েদের ফিটনেস যে পর্যায়ে রয়েছে সেটাই বজায় রাখা। মেয়েরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং শিখতে খুবই আগ্রহী।'
বিশ্বকাপ বাছাই শেষে দল ফেরার পর ফিটনেস নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে চান সাবেক এই তারকা অ্যাথলেট, 'বিসিবির নারী উইংয়ের কাছে আমি দেড় মাসের একটি ফিটনেস ক্যাম্পের অনুরোধ জানিয়েছি। সেটা করতে পারলে তখন ফিটনেস নিয়ে আরো গভীর এবং বিশেষায়িত পর্যায়ে কাজ করা যাবে।'
বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের নারী ক্রীড়াবিদ জুই। বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী অ্যাথলেট হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তেমনি দক্ষিণ এশিয়া, ইসলামিক গেমসসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক পেয়েছেন। কোচ হিসেবে নিজেকে নিয়েছেন ভিন্ন উচ্চতায়। অ্যাথলেটিক্সে জাম্প কোচিংয়ে তার রয়েছে সর্বোচ্চ ডিগ্রি। কোচিংয়ের পাশাপাশি তিনি খেলাধূলার উপর পিএইচডি সনদও পেয়েছেন।
অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন সাফ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে জাম্পের কোচ করেছিল। জুই নিজ ডিসিপ্লিনের বদলে ক্রিকেটেই কাজ করছেন, 'ফাহিম স্যার (বিসিবি পরিচালক) আগে থেকেই বিকেএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বিকেএসপির সম্মতিতেই ক্রিকেটে কাজ শুরু করা। অ্যাথলেটিক্স তো আমার রক্তেই। অ্যাথলেটিক্সে কাজ আগে করেছি আবারও করব। অন্য খেলায় একটি কাজের সুযোগ পেলাম সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম।'
অন্য ডিসিপ্লিন থেকে আসলেও জ্যোতিদের কাছ থেকে বেশ আন্তরিকতাই পেয়েছেন জুই, 'অনেক মেয়েই রয়েছে বিকেএসপির। কেউ আমাকে শিক্ষক আবার কেউ সিনিয়র বোন হিসেবে পেয়েছে। আবার বিকেএসপির বাইরেও যারা এই দলে আছে তারাও আমাকে যথেষ্ট সম্মান-মর্যাদা প্রদর্শন করছে।'
নারী ক্রিকেট দলের ব্যাটার শারমিন সুলতানা সুপ্তা জুই সম্পর্কে বলেন, 'তিনি নিসন্দেহে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ। তার কাছ থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছুই রয়েছে। বিশেষত তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতাও আছে। তিনি এত দিন ইনডিভিজুয়াল স্পোর্টসে থাকলেও আশা করি সময় পেলে তিনি দলীয় খেলাতেও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। অ্যাথলেটিক্সের মতো বাংলাদেশের ক্রিকেটেও তিনি ভালো কিছু দেয়ার সামর্থ্য রাখেন।'
তুষার কান্তি হালদার ছিলেন হকি খেলোয়াড়। নিজেকে প্রমাণ করে তুষার এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশই। জুই ছয় মাসের জন্য কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তিনিও নিজের সামর্থ্যরে বিকাশ ঘটাতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে অ্যাথলেটদেরও কাজের পথ প্রশস্ত হবে। ক্রিকেট বোর্ড অন্য ডিসিপ্লিনের মেধাবী ও যোগ্যদের কাজের সুযোগ প্রদান করে।
এমআর/এসএন