রাশিয়ার ওপর কেন শুল্ক আরোপ করেননি ট্রাম্প?

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন কর’ ঘোষণা করে তার ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হওয়ার আশঙ্কাও।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, হোয়াইট হাউস রোজ গার্ডেনে নিজের বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ভারত, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নির্দিষ্ট বিবরণসহ একটি চার্ট উঁচিয়ে ধরেছিলেন। বিশ্বের বহু দেশ থাকলেও ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে রশিয়া।

শুধু রাশিয়া নয়, বেলারুশ, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়ার ওপরও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। তবে বিশাল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি ইরান এবং সিরিয়ার ওপর যথাক্রমে ১০ এবং ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তালিকা থেকে রাশিয়ার অব্যাহতি অনেককেই অবাক করে দিয়েছে। কারণ মস্কো শিগগিরই ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করতে ব্যর্থ হলে রাশিয়ার তেলের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর ‘খুবই রাগান্বিত’ ও ‘বিরক্ত’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এসব দেশের ওপর আগে থেকেই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যে কারণে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো মরিশাস বা ব্রুনেইয়ের মতো দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়ার সঙ্গে বেশি বাণিজ্য করে, যেগুলো শুল্ক তালিকার অংশ ছিল। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনও ট্রাম্পের এই শুল্ক তালিকায় রয়েছে।

তবে ভারতভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফরম জিরাফের সহপ্রতিষ্ঠাতা সৌরভ ঘোষ বলছেন, ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে চলমান আলোচনার কারণে এমনটা হতে পারে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য তলানিতে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান ট্রাম্প। তাই তিনি এমনটা করেছেন। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া আপাতত ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুর বাইরে রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। 

এসএম/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ