অবশেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের অভিশংসনের রায়ের দিন ঘোষণা করেছে দেশিটির সর্বোচ্চ আদালত। কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের অভিশংসন মামলার রায় আগামী শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ ওইদিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইউন সুক ইওলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
গত ৩ ডিসেম্বর ইউনের সামরিক আইন ঘোষণার ইস্যুতে কয়েক মাস ধরে উত্তাল হয়ে উঠছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতির মাঠ। যা বিশ্ব মিত্রদেরও হতবাক করেছে। প্রতি সপ্তাহে রাজধানী সিউলের রাস্তায় লাখ লাখ কোরীয়রা ইউনের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ করছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা এড়াতে আদালত প্রাঙ্গণসহ রাজধানী সিউলে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার দিন ১৪ হাজারেরও বেশি বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে। বন্ধ রাখা হবে আদালতের আশপাশের কয়েকটি ট্রেন স্টেশনও। এরই মধ্যে চলছে রায় পক্ষে বা বিপক্ষে আসলে রাজনৈতিক সমীকরণের নানা আলোচনা।
বিপক্ষে আসলে রাজনৈতিক সমীকরণের নানা আলোচনা।
যদি সাংবিধানিক আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। যার সুফল ভোগ করবে বিরোধী নেতা লি জে-মিয়ং। যিনি বর্তমানে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত সপ্তাহে একটি আপিল আদালত লির বিরুদ্ধে একটি নির্বাচনি আইনের সাজা বাতিল করে দেয়। যার ফলে বিরোধী নেতা লির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
এদিকে ইউনকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণের জন্য আদালতের আট বিচারপতির মধ্যে অন্তত ছয়জনকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। আদালত যদি অভিশংসন বাতিল করে দেয় বা খারিজ করে দেয় তাহলে করলে প্রেসিডেন্ট পদে পূর্ণবহাল থেকে তার কার্যক্রম চালাতে আর কোনো বাধা থাকবে না এবং তার বাকি মেয়াদ শেষ ২০২৭ সালের ১০ মে পযন্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক সু জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিন্টে ইউনের অভিশংসন বিচারে আদালত যে সিদ্ধান্তই দেবেন আইনের শাসনের নীতি অনুসারে আমাদের অবশ্যই শান্তভাবে তা মেনে নিতে হবে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউনের মামলার ১১ দফা শুনানি শেষ হওয়ার পর থেকে আট সদস্যের আদালত পাঁচ সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছে, যা ১৯৮৮ সালে সাংবিধানিক আদালত মামলার শুনানি শুরু করার পর থেকে প্রেসিডেন্ট অভিশংসনের বিচারের জন্য এটাই ছিল দীর্ঘতম আলোচনা।
এমআর/এসএন