© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পরিবেশবিদদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর দূরত্ব বাড়ছে : রিজওয়ানা

শেয়ার করুন:
পরিবেশবিদদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর দূরত্ব বাড়ছে : রিজওয়ানা

ছবি : সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৩৫ পিএম | ২২ মে, ২০২৫
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘আমাদের বায়ু, নদী ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে।’

বাংলাদেশের পরিবেশগত অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিকে উন্নয়নের কেন্দ্রে না রাখলে আমরা এগোতে পারব না।

পরিবেশবিদদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর দূরত্ব দিনে দিনে বাড়ছে। অনেক সময় প্রকল্প অনুমোদনের সময় পরিবেশগত দিকগুলো উপেক্ষা করা হয়।

পরিবেশকে পরবর্তীতে ভাবার বিষয় হিসেবে দেখা হয়—এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (২২ মে) পরিবেশ অধিদপ্তরের আগারগাঁও কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে ‘হারমনি উইথ নেচার অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমি পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি যেন সব ইআইএ প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করে। জনগণের জানার অধিকার আছে।

অভিযোগের জবাব দেওয়া দয়া নয়—এটা আমাদের দায়িত্ব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে সত্যিকারের সম্প্রীতি জরুরি। প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে তুলে ধরার জন্য সবুজ প্রলেপ বা নিয়মতান্ত্রিক কাজের মতো পরিবেশ সংরক্ষণকে দেখলে টেকসই উন্নয়ন অর্জিত হবে না।

টেকসই উন্নয়নের জন্য জনসম্পৃক্ততা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু চেকলিস্ট পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদনগুলো যদি মানুষের ভাষায় লেখা না হয় বা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার না করা হয়, তাহলে সেগুলোর কোনো কার্যকারিতা থাকে না। জনমত শোনা যথেষ্ট নয়—তা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু একটি মন্ত্রণালয় পরিবেশ নিয়ে কাজ করলে হবে না—সকল মন্ত্রণালয়কে এই দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রশাসনিক সমন্বয় ও সংস্কার ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।’

পরামর্শ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. সোহরাব আলী।

পরিবেশবাদী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই কর্মশালায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আরএম/এসএন

মন্তব্য করুন