বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাসফিয়া তাসনিম (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেজি স্কুল সড়কের বাসিন্দা নাসিম ফারুকের মেয়ে এবং জেলার এভারগ্রীন পাবলিক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তাসফিয়া অসুস্থ হলে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাসফিয়ার মৃত্যু হয়।
বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলের হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, গত দুই-তিনদিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর এ দুই মাস ডেঙ্গুর পিক সময় হলেও বরগুনায় এর আগেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে থেমে-থেমে বৃষ্টি হচ্ছে এবং পানি জমে আবারও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। তবে হাসপাতালে ভর্তি সব রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বরগুনায় এ বছর ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করার পর প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ জন আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও গত এক মাসে এর সংখ্যা কমে ১৫-২০ জনে দাঁড়ায়। তবে গত তিন-চারদিন ধরে আবারও ডেঙ্গু রোগী বেড়ে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও ৪ জন। বর্তমানে জেলায় মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০০ জন।
এ বছর এখন পর্যন্ত বরগুনায় ৫ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৮২৭ জন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৭ জন এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে জেলার আরও অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এমআর/এসএন