‘ট্রাম্প মূলত ‌রাশিয়ার এজেন্ট, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভান ধরেছে’

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুজা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভান করলেও আসলে মস্কোর স্বার্থে কাজ করছেন এবং রাশিয়ার এজেন্ট হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।

গত বুধবার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সামার ইউনিভার্সিটিতে ভাষণ দেওয়ার সময় রেবেলো দে সুজা ট্রাম্পের সমালোচনা করে আরও বলেন, তিনি তার পূর্বসূরির নিঃশর্ত কিয়েভ সমর্থনের নীতি থেকে সরে গেছেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তির শীর্ষ নেতা বস্তুতপক্ষে সোভিয়েত বা রুশ এজেন্ট। তিনি একজন এজেন্টের মতো কাজ করছেন।”

রেবেলো দে সুজা আরও দাবি করেন, ট্রাম্প আসলে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর চেয়ে বেশি একজন “রেফারি, যিনি শুধু একটি দলের সঙ্গেই আলোচনা করেন।” তার মতে, সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন বৈঠকে কিয়েভ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থকদের জোর করে ঢুকতে হয়েছে।

তার এই মন্তব্য অনেকটা স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০১৬ সালের তথাকথিত রাশিয়াগেট কেলেঙ্কারির কথা, যেখানে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বীরা অভিযোগ করেছিলেন, তার প্রচারাভিযান ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগসাজশ করেছে। যদিও ২০১৯ সালের মুলার তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ২০২৩ সালের ডারহাম রিপোর্টে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে তৈরি করা একটি অভিযোগ বলে উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্প একে বারবার “আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, তার প্রেসিডেন্সি ধ্বংস করা ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ নীতি বৈধ করার জন্যই এটি সাজানো হয়েছিল।

এ বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। তিনি কখনো রাশিয়া, আবার কখনো ইউক্রেনকে অচলাবস্থার জন্য দায়ী করেছেন। ট্রাম্প নিয়মিত ভ্লাদিমির পুতিন ও ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। কখনো মস্কোকে কঠিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো কিয়েভকে অভিযুক্ত করেছেন কোনো নমনীয়তা না দেখানোয় এবং শান্তির জন্য প্রস্তুত না থাকার জন্য।

এ মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, তিনি পুতিনের ওপর খুবই, খুবই অসন্তুষ্ট এবং রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করতে পারেন। আলাস্কায় ঐতিহাসিক সম্মেলনের পর সেই হুমকি এখনও ঝুলে আছে। তবে পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেবল ফাঁকা হুমকি দিয়েছে, যা রাশিয়াকে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, এই যুদ্ধে সবাই দায়ী। তিনি অঙ্গীকার করেছেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র: আরটি

এমআর/এসএন   

Share this news on:

সর্বশেষ

img
এই সানগ্লাস আমার নয় কিন্তু সে আমার : পরীমণি Aug 29, 2025
img
আপনারা ক্ষমতার কাছেও আসেননি, নেতাকর্মীদের মির্জা ফখরুল Aug 29, 2025
img

মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

'পুতিনকে সমর্থনের খেসারত দিচ্ছে ভারত, বাকিদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে' Aug 29, 2025
img
আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Aug 29, 2025
img
টমেটো ১৪০, কাঁচা মরিচ ২০০, সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের Aug 29, 2025
img

এশিয়া কাপ হকি

মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হারল বাংলাদেশ Aug 29, 2025
img
মুক্তির আগেই বাজিমাত, আন্তর্জাতিক পুরস্কারে মোড়ানো ‘অর্জুন চক্রবর্তী’ Aug 29, 2025
img
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ গতানুগতিক, বিভ্রান্তিমূলক: জামায়াত Aug 29, 2025
img
আবারও যুদ্ধের সতর্কবার্তা ইরানের Aug 29, 2025
img
চাকরিজীবী থেকে বলিউড নায়িকা হয়ে উঠলেন অভিনেত্রী সোহা Aug 29, 2025
img
শুটিং সেটে বিশৃঙ্খলা, আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া ভাইরাল Aug 29, 2025
img
আটালান্টার হয়ে মাঠে নামার আগে সামাজিকমাধ্যমে বার্তা দিলেন সাকিব Aug 29, 2025
img
জর্জিয়ার পেইজ ইউইং জিতলেন মিসেস আমেরিকার মুকুট Aug 29, 2025
img
সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরপেক্ষভাবে ভোট অনুষ্ঠান : কাদের সিদ্দিকী Aug 29, 2025
img
জাহ্নবী-বরুণের জুটি নিয়ে নতুন ছবির টিজার প্রকাশ Aug 29, 2025
img
পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান সিইসির Aug 29, 2025
img
বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর দোহা, ঢাকার অবস্থান ১৬তম Aug 29, 2025
img
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে Aug 29, 2025
img
‘মঞ্চ ৭১’ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম Aug 29, 2025
img
উত্তরাখণ্ডে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভেঙে পড়ল ঘরবাড়ি Aug 29, 2025