শতাব্দী গোসল করবেন তাই প্রতিদিন এক বালতি বরফ পাঠাতেন প্রযোজক
সময় বদলেছে। যুগের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফিরেছে। ইন্ডোর শুটিং হোক বা আউটডোর—এখন নায়ক-নায়িকাদের কমফোর্ট দিতে সব রকম ব্যবস্থাই থাকে। তাও আবার সেই ব্যবস্থা হয় বিলাসবহুল।
কিন্তু যদি এই সময় থেকে প্রায় ২৭ বছর আগে পিছিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির চিত্রটা এমন ছিল না।
যে সময় বাংলা সিনেপর্দায় দেবশ্রী রায়, শতাব্দীরা দাপিয়ে অভিনয় করছেন, সেই সময় আউটডোরে একটা মেকআপ ভ্যান থাকা মানে বিলাসিতা। সম্প্রতি সেই সময়কার এক ছবির শুটিংয়ে গিয়ে এক আজব অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেত্রী-সাংসদ শতাব্দী রায়।
সময়টা ১৯৯৮ সাল।
বক্স অফিসে মুক্তি পেল পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীর রাজা রানি বাদশা। ছবিটি বক্স অফিসে সুপারহিট হয়। কিন্তু এই ছবির শুটিংয়েই কতটা বিপাকে পড়তে হয়েছিল, তা এত বছর পর প্রকাশ্যে আনলেন শতাব্দী। শতাব্দীর কথায়, অসহ্য গরমে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে শুটিং করতে গিয়ে কী নাজেহাল হতে হয়েছিল তাঁকে।
শতাব্দীর কথায়, সেই সময় বাঁকুড়ায় যেখানে শুটিং চলছিল, সেখানে লো ভোল্টেজের কারণে কোনো এসির ব্যবস্থা ছিল না। গরম এতটাই যে পথ কুকুররা রাস্তায় দাঁড়াতে পারছিল না। সেখানে নাচতে হয়েছিল শতাব্দীকে। পরিচালক হরনাথকে সেকথা জানাতেই, একটা ফন্দি বার করলেন প্রযোজক ও পরিচালক।
শতাব্দী জানালেন, আমাকে গরম থেকে রেহাই দিতে বাইরে থেকে চাঁই চাঁই বরফ আনা হতো।
একটা বালতিতে সেই বরফ রাখা হতো। সেই বরফগলা জল দিয়েই স্নান করতাম। আর এই বরফগলা জলই ছিল এসির বিকল্প।
তবে শতাব্দী এও জানান, সেদিন শুটিং করতে যা কষ্ট পেয়েছিলাম, তা আনন্দে পরিণত হয়েছিল যখন রাজা রানি বাদশা সুপারহিট হয়। আজ শতাব্দীর কাছে সেগুলো সুখস্মৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।
এফপি/ টিকে