‘মব দমনে সরকার ব্যর্থ হলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে’

দেশে সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, খুনাখুনি ও মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে; এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ইমেরিটাস সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধানে ‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ’—এ কথাটি দৃপ্ত শপথে লেখা থাকলেও গত ৫৪ বছরে জনগণই সব ক্ষমতা থেকে উপেক্ষিত হয়েছে। মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে মানুষ তার আত্মমর্যাদা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। 

গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কোনো অশুভ শক্তি বা ষড়যন্ত্র যেন এই বিজয় ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব; কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই লক্ষ করা যাচ্ছে, একটি অশুভ শক্তি বিগত আমলের মতোই সর্বত্র চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, খুনাখুনি ও মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা কারো কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ‘গণফোরাম মনে করে, কেবল সরকার ও দল বদল নয়, জনগণের ভাগ্য বদলের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হবে। গণফোরামের লক্ষ্য বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক, মানবিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

ইউটি/টিএ


Share this news on:

সর্বশেষ

img
টানা দুই হারের পর অবশেষে জয়ে ফিরলো ম্যানচেস্টার সিটি Nov 30, 2025
img
বৃষ্টিতে ইন্দোনেশিয়া-থাইল্যান্ড-শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বন্যা-ভূমিধস, প্রাণ হারালেন মোট ৬০০ Nov 30, 2025
img
বাংলাদেশের জয় নিয়ে আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের মন্তব্য Nov 30, 2025
img
ভোট দিতে প্রবাসী নিবন্ধন ৯২ হাজার Nov 30, 2025
img
ঢাকার আকাশ আজ পরিষ্কার থাকবে ও আবহাওয়া শুষ্ক, বার্তা অধিদপ্তরের Nov 30, 2025
img
যদি দোষী হয়ে থাকি, আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে দেন: বিজয় Nov 30, 2025
img
জোড় ইজতেমায় ১৯ দেশের বিদেশি মেহমান, আখেরি মোনাজাত মঙ্গলবার Nov 30, 2025
img

মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইনুর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণ আজ Nov 30, 2025
img
দুপুরের খাবারের পর রান্নাঘরে তালা দেন মনোজ বাজপেয়ী Nov 30, 2025
img
ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে পাল্টা ক্ষোভ কারাকাসের Nov 30, 2025
img
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না থাকলেও অনুপ্রেরণায় ফিফা প্রেসিডেন্ট Nov 30, 2025
img
নিউইয়র্ক সিটিকে হারিয়ে শিরোপা জিতল মেসির ইন্টার মায়ামি Nov 30, 2025
img
কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ হৃতিক রোশান পরিবারের! Nov 30, 2025
img
এক সময়ের তারকা আজ বিয়েবাড়ির মঞ্চে, রাহুল রায়কে দেখে ব্যথিত ভক্তরা Nov 30, 2025
img
মানুষ নির্বাচনের ব্যাপারে উন্মুখ হয়ে আছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য Nov 30, 2025
img
জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান Nov 30, 2025
img
ইউরোপকে ঘিরে সংকট, গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য Nov 30, 2025
img
বিজয়ের মাসে বড় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি Nov 30, 2025
img
গভীর সমুদ্রে জাহাজে লাফিয়ে উঠল ৩ মণ ইলিশ Nov 30, 2025
img
আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে প্রতি ভরি স্বর্ণ Nov 30, 2025