• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্র

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্র

ফিচার ডেস্ক২২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৩৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের অধীন করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান। এই পর্যটন কেন্দ্রটি সুন্দরবনের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ৩০ হেক্টর জমির উপর এই পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে।

ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়াও এখানে রয়েছে হরিণ ও কুমির প্রজনন ও লালন পালন কেন্দ্র। নদী পথে খুলনা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার এবং মংলা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে এ পর্যটন কেন্দ্রটির অবস্থান।

এখানে প্রবেশপথেই মাটিতে শোয়ানো বিশালাকৃতির মানচিত্র সুন্দরবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। মানচিত্রটিকে পেছনে ফেলে বনের মধ্যে দক্ষিণে চলে গেছে আঁকাবাঁকা কাঠের তৈরি হাঁটা পথ। এই নাম ‘মাঙ্কি ট্রেইল’।

এই নামের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় ট্রেইলে পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই। পুরো ট্রেইল জুড়েই দেখা মিলবে সুন্দরবনের অন্যতম বাসিন্দা রেসাস বানরের। বানরগুলো ট্যুরিস্টদের কাছাকাছি চলে আসে।

কাঠ বিছানো পথের দুই ধারে ঘন জঙ্গল। দুই পাশে বাইন, কেওড়া আর সুন্দরী গাছের সারি। তবে বাইন গাছের সংখ্যা বেশি। কাঠের পথটি কিছু দূর যাওয়ার পর হাতের বাঁয়ে শাখা পথ গিয়ে থেমেছে পশুরের তীরে। শেষ মাথায় নদীর তীরে বেঞ্চ পাতানো ছাউনি। মূল পথটি আরও প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে ছোট খালের পাড়ে থেমেছে।

এ পথের মাথায় গোলপাতার ছাউনির গোলাকৃতির আরও একটি শেইড। যেখানে বেঞ্চে বসে বনের নিস্তব্ধতা উপভোগ করা যাবে।

সেখান থেকে আবারও পশ্চিম দিকে কাঠের ট্রেইলটি চলে গেছে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের পাশে। এই ট্রেইলের মাঝামাঝি জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার (বুরুজ)। করমজলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এর চূড়ায় থেকে করমজল এবং চারপাশটা ভালো করে দেখা যায়।

সুন্দরবনের উপরিভাগের সবুজাভ নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য।

কাঠের তৈরি ট্রেইলের একেবারে শেষ প্রান্তে কুমির প্রজনন কেন্দ্র। সেখান থেকে সামান্য পশ্চিম দিকে হরিণ ও কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র। সামনেই ছোট ছোট অনেকগুলো চৌবাচ্চা। কোনটিতে ডিম ফুটে বের হওয়া কুমির ছানা, কোনটিতে মাঝারি আকৃতির আবার কোনটিতে আরও একটু বড় বয়সের লোনা জলের কুমিরের বাচ্চা।

একেবারে দক্ষিণ পাশে দেয়াল ঘেরা বড় পুকুরে আছে রোমিও, জুলিয়েট আর পিলপিল। লবণ পানির প্রজাতির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও লালন-পালনের জন্য সুন্দরবনস বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে ৮ একর জমির ওপর বনবিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এই কুমির প্রজনন কেন্দ্র।

ওই বছর সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি লোনা পানির কুমির নিয়ে কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। রোমিও-জুলিয়েট জুটি প্রজননক্ষম হয় ২০০৫ সালে।

জুলিয়েট আকারে রোমিওর চেয়ে সামান্য ছোট। লোনা পানির এই প্রজাতির কুমির ৮০ থেকে ১০০ বছর বাঁচে। 

এর পাশেই চোখে পড়বে চিড়িয়াখানার মতো উপরিভাগ উন্মুক্ত খাচায় ঘেরা খোলা জায়গা। ভেতরে চিত্রা হরিণ। খাঁচার ভেতরে পশ্চিম কোণে ছোট আরেকটি খাঁচা। ভেতরে রয়েছে কয়েকটি রেসাস বানর।

প্রবেশ ফি:

করমজলে দেশি পর্যটকের জন্য প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা, বিদেশী পর্যটক ৩শ’ টাকা। দেশি ছাত্র ২০ টাকা। দেশি গবেষক ৪০ টাকা। বিদেশী গবেষক জনপ্রতি ৫শ’ টাকা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (বারো বছরের নিচে) ১০ টাকা। দেশি পর্যটকের ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহারে ক্যামেরা প্রতি ২শ’ টাকা। বিদেশি পর্যটক ৩শ’ টাকা। সব মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।

যাওয়ার উপায়:

ঢাকার গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে মেঘনা পরিবহন (০১৭১৭১৭৩৮৮৫৫৩), পর্যটক পরিবহন (০১৭১১১৩১০৭৮) সাকুরা পরিবহন (০১৭১১০১০৪৫০), সোহাগ পরিবহন (০১৭১৮৬৭৯৩০২) ইত্যাদি বাসে বাগেরহাট যেতে হবে।

খুলনা থেকে রূপসা বা বাগেরহাটের মংলা বন্দর থেকে লঞ্চ পাবেন। এছাড়াও বাগেরহাটের মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকে পাবেন সুন্দরবন যাওয়ার নৌযান।

তবে সবচেয়ে ভাল হয় সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি মংলা যাওয়ার বাসে করে যাওয়া। মংলা ফেরি ঘাট থেকে ১০ জনের উপযোগী ইঞ্জিন চালিত নৌকার ভাড়া করা যায় তাহলে খরচ সাশ্রয় হবে।

এছাড়া ঢাকার সায়দাবাদ বাস স্টেশন থেকে সরাসরি মংলা যায় সুন্দরবন ও পর্যটক সার্ভিসের বাস। ভাড়া ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা।

মংলা থেকে ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে যেতে হবে করমজল। দশ জনের উপযোগী একটি ইঞ্জিন নৌকার যাওয়া আসার ভাড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা। এসব ইঞ্জিন নৌকাগুলো সাধারণত ছাড়ে মংলা ফেরি ঘাট থেকে।

করমজল যেতে হয় পশুর নদী পাড়ি দিয়ে। এই নদী সবসময়ই কম-বেশি উত্তাল থাকে। তাই ভালো মানের ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে যাওয়া উচিৎ। আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া আছে কী না।

কোথায় থাকবেন:

সুন্দরবনে রাত কাটাতে চাইলে পর্যটন জাহাজে রাত কাটানো যায়। এছাড়া হিরণপয়েন্টের নীলকমল, টাইগার পয়েন্টের কচিখালী এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন করা যাবে। নীলকমল ও কচিখালীতে কক্ষ প্রতি ৩০০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। তবে কচিখালীতে ৪ কক্ষ ভাড়া নিলে ১০,০০০ টাকায় থাকা যাবে। কটকা রেস্ট হাউজে রুম নিতে লাগে ২০০০ টাকা। বিদেশি ভ্রমণকারীদের এই সব রেস্ট হাউজে রাত কাটাতে রুম প্রতি ৫০০০ টাকা দিতে হয়।

এছাড়া সারাদিন করমজলে বেড়িয়ে রাতে এসে থাকতে পারেন বন্দর শহর মংলায়। এখানে আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল পশুর (০৪৬৬২-৭৫১০০)। রুম (ডাবল) প্রতি ভাড়া পড়বে ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা (নন এসি/এসি)। ইকনোমি বেড ৬শ’ টাকা।

এছাড়াও মংলা শহরে সাধারণ মানের হোটেলগুলো আছে। খুলনা ফিরে এলে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাওয়া যাবে থাকার জন্যে।

খুলনার কয়েকটি আবাসিক হোটেল হলো- সিএসএস রেস্ট হাউজ (০৪১-৭২২৩৫৫), হোটেল ক্যাসেল সালাম (০৪১-৭৩০৭২৫), হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল (০৪১-৮১৩০৬৭-৯), প্ল্যাটিনাম জুট মিলস লিমিটেড রেস্ট হাউজ (০৪১-৭৬২৩৩৫), এলজিইডি রেস্ট হাউজ (০৪১৭২৩১৮৩)।

 

টাইমস/এইচইউ

‘করোনায় অযথা দামি ইনজেকশন নয়, খরচ মাত্র ১০০ টাকা’

‘করোনায় অযথা দামি ইনজেকশন নয়, খরচ মাত্র ১০০ টাকা’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন করোনাভাইরাসে

সব পাবলিক-প্রাইভেট ভার্সিটি ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটি

সব পাবলিক-প্রাইভেট ভার্সিটি ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটি

সব পাবলিক ও প্রাইভেট ভার্সিটিতে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী

অন্যদের বাঁচাতে প্লাজমা দিলেন করোনাজয়ী ভাই-বোন

অন্যদের বাঁচাতে প্লাজমা দিলেন করোনাজয়ী ভাই-বোন

করোনা ভাইরাসকে জয় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী মাহপারা তাসনীম ও তার

জাতীয়

প্রেমিককে আটকে ছাত্রীকে ধর্ষণ, মুক্তিপণ চেয়ে আটক বখাটেরা!

প্রেমিককে আটকে ছাত্রীকে ধর্ষণ, মুক্তিপণ চেয়ে আটক বখাটেরা!

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার পটিখালঘাটায় প্রেমিককে আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণও

আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাসে ১৮ দেশে ৭১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনাভাইরাসে ১৮ দেশে ৭১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনাভাইরাসে দেশের বাইরেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। এপর্যন্ত আমেরিকাসহ ১৮ দেশে ৭১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে

জাতীয়

করোনা: একদিনে রেকর্ড ২৫২৩ জন শনাক্ত, ২৩ জনের মৃত্যু

করোনা: একদিনে রেকর্ড ২৫২৩ জন শনাক্ত, ২৩ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫২৩ জন। যা একদিনে আক্রান্তের হিসেবে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২ হাজার ৮৪৪। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৩ জন। এতে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮২ জনে।

জাতীয়

করোনায় আক্রান্ত পুলিশের ৪৫৪৪ সদস্য, সুস্থ ১৫৬৩

করোনায় আক্রান্ত পুলিশের ৪৫৪৪ সদস্য, সুস্থ ১৫৬৩

মহামারী করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চার হাজার ৫৪৪ জন সদস্য। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৬৩ জন। সুস্থ হওয়াদের মধ্যে বেশির ভাগ পুলিশ সদস্যই পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছেন।

জাতীয়

প্রাথমিকের প্রশ্ন যাবে বাড়িতে, অভিভাবকদের সামনে পরীক্ষা!

প্রাথমিকের প্রশ্ন যাবে বাড়িতে, অভিভাবকদের সামনে পরীক্ষা!

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিনে দিনে বাড়ছে। এরই মাঝে দেশে লকডাউন শিথিল করে দেয়া হচ্ছে। খুলছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গাড়ি চলাচলও ধীরে

বিনোদন

যেসব শর্তে আবার শুরু হচ্ছে নাটকের শুটিং

যেসব শর্তে আবার শুরু হচ্ছে নাটকের শুটিং

কিছুদিন আগে গত ১৭ মে ৬ শর্ত মেনে নিজ দায়িত্বে শুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল টিভি নাটকের শীর্ষ সংগঠনগুলো। যদিও এই সিদ্ধান্তের একদিন পরই নিজেদের মধ্যে মতের মিল না হওয়ায় দূরে সরে আসে সংগঠনগুলো।