• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

ক্ষুদিরাম: হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে

ক্ষুদিরাম: হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে

ফিচার ডেস্ক০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৫৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ক্ষুদিরাম বসু, ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম বিপ্লবী সৈনিক। ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার ফাঁসি হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৮ মাস ৮ দিন।

তাকে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী বলা হয়।

ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থানার অন্তর্গত মোহবনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নাড়াজোল প্রদেশের একজন তসিলদার ছিলেন।

বাবা ত্রৈলক্যনাথ এবং মা লক্ষী দেবীর ঘরে তিন মেয়ে সন্তানের পর একমাত্র ছেলে সন্তান ক্ষুদিরাম। তার আরও দুজন ভাই জন্মের পর মারা গিয়েছিল। তাই ক্ষুদিরামকে নিয়েও বাবা-মায়ের দুঃশ্চিন্তা বেড়ে যায়। ফলে মাত্র তিন মুঠি খুদের (শস্যের খুদ) বিনিময়ে তাকে তার বড় বোনের কাছে বিক্রি (প্রতীকি বিক্রি) করে দেন তার বাবা-মা। সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় ক্ষুদিরাম।

মাত্র ছয় বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম তার মাকে হারান। এর এক বছর পরই মারা যান তার বাবা। অসহায় ক্ষুদিরামকে তখন নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন বড় বোন অপরূপা। সেই থেকে তিনি বোনের কাছে বড় হন।

১৯০৪ সালে বোনের স্বামী অমৃত লালা রায় তাকে মেদেনীপুরে তামলুক হ্যামিল্টন হাই স্কুলে ভর্তি করে দেন।

কিশোর বয়সে ক্ষুদিরাম কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন। তিনি তার শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বোসের নিকট হতে এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতা পড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে অনুপ্রাণিত হন।

১৯০২-১৯০৩ সালে বিপ্লবী নেতা শ্রী অরবিন্দ ও সিস্টার-নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করেন এবং জনসম্মুখে বৃটিশবিরোধী বক্তব্য রাখেন। সেখানকার স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী দলগুলোর সাথে বেশ কিছু গোপন বৈঠক করেন তারা।

তাদের উৎসাহে ক্ষুদিরাম বিপ্লবে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন এবং কিশোর বয়সেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অচিরেই তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন এবং কলকাতার বিপ্লবী নেতা বারীন্দ্র ঘোষের সংস্পর্শে আসেন।

পরে আরেক বিপ্লবী দল “যুগান্তর”এ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন ক্ষুদিরাম। এ সময় “সোনার বাংলা” শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করতে গিয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি গ্রেপ্তার হন।

ভারতের স্বাধীনতার দাবিতে কিশোর বয়সেই হাতে নিয়েছেন অস্ত্র। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন জায়গায় বোমা পুতে রাখতে অংশ নেন।

১৯০৭ সালে আরেক বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো প্যারিসে নির্বাসিত রাশিয়ান বিপ্লবী নিকোলাস সাফারস্কি এর কাছ থেকে বোমা বানানো শিখে আসেন।

এ সময় আলিপুরের প্রেসিডেন্সি কোর্টের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড এর আদালতে অনুশীলন সমিতির বেশ কয়েকজন বিপ্লবীর বিচার চলছিল। তাই বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস ও বারীন্দ্র ঘোষ কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

১৯০৮ সালের মার্চ মাসে কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি আলীপুর থেকে মোজাফফরপুরে স্থানান্তর হন।

সেখানে ১৯০৮ সালের ৩ এপ্রিল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন।

তারা কিংসফোর্ডের গাড়ি লক্ষ্য করে হেমচন্দ্রের বানানো ৬ আউন্স ওজনের বোমা নিক্ষেপ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেদিন কিংসফোর্ড গাড়িতে ছিলেন না। ফলে গাড়িতে থাকা অন্য দুজন ব্রিটিশ নারী মারা যান।

এ সময় ব্রিটিশদের কাছে ধরা না দিতে আত্মহত্যা করেন প্রফুল্ল চাকি। তবে ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে যান।

বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অথচ বয়সে তিনি ছিলেন একজন কিশোর মাত্র।

তাই ব্রিটিশ বিচারক কর্নডফ ক্ষুদিরামকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাঁসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা? উত্তরে ক্ষুদিরাম মুচকি হাসেন। বিচারক পুনরায় একই প্রশ্ন করলে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন।

১১ আগস্ট ১৯০৮, ভোর ছয়টা। ফাঁসির মঞ্চে উঠছেন নির্ভীক, অকুতোভয় ক্ষুদিরাম। তার মধ্যে নেই কোন মৃত্যু ভয়। অবশেষে হাসিমুখে বরণ করে নিলেন শহীদি মৃত্যু।

তার মৃত্যুতে বিপ্লবী চেতনায় জেগে ওঠে হাজারো তরুণ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হয়ে ওঠে আরও বেগবান। তিনি হয়ে গেলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম পথিকৃৎ।

তাই বলা যায়, ক্ষুদিরাম মরে যায়নি। ক্ষুদিরামরা মরতে পারে না। যুগ যুগ ধরে মুক্তিকামী জনতার হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে একটি নাম- ক্ষুদিরাম।

 

ইন্টারনেট অবলম্বনে লিখেছেন এনামুল হক।

 

ঈদের ছুটিতে পানিতে ও নৌকা ডুবে প্রাণ গেল ৪৬ জনের

ঈদের ছুটিতে পানিতে ও নৌকা ডুবে প্রাণ গেল ৪৬ জনের

ঈদের ছুটিতে পানিতে ও নৌকা ডুবে নারী ও শিশুসহ প্রাণ

দেশে করোনায় প্রাণ গেল আরও ৫০ জনের

দেশে করোনায় প্রাণ গেল আরও ৫০ জনের

দেশে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০

মেজর সিনহার মাকে ফোন দিয়ে বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

মেজর সিনহার মাকে ফোন দিয়ে বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ

জাতীয়

চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। চসিকের নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগে এ দায়িত্ব পেলেন তিনি।

জাতীয়

আটকের পর জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেলেন ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৪৩ জন

আটকের পর জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেলেন ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৪৩ জন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে সব ধরনের পর্যটনসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লঞ্চ নিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে সুন্দরবনে অনুপ্রবেশ করেছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রলীগ সভাপতি মো. ইব্রাহীম হোসেনসহ ৪৩ নেতাকর্মী। পরে সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়। এরপর অনুপ্রবেশ করার জন্য লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করে জরিমানা পরিশোধ করায় ছাড়া পান আটক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

জাতীয়

ঢাবির সাবেক অধ্যাপক এম সাইফুল্লাহ মারা গেছেন

ঢাবির সাবেক অধ্যাপক এম সাইফুল্লাহ মারা গেছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

জাতীয়

রিমান্ড নামঞ্জুর করে টিকটক ‘অপু ভাইকে’ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

রিমান্ড নামঞ্জুর করে টিকটক ‘অপু ভাইকে’ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

সড়কে মারামারির ঘটনায় জনপ্রিয় ভিডিও অ্যাপ টিকটকের বাংলাদেশি টিকটকার ‘টিকটক অপু’ ওরফে ‘অপু ভাই’ এর রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদাল

জাতীয়

সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় তদন্ত শুরু

সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় তদন্ত শুরু

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তদন্তে মাঠে নেমেছে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি।

স্বাস্থ্য

রোগ প্রতিরোধে আমড়া

রোগ প্রতিরোধে আমড়া

পুষ্টিগুণে ভরপুর টক-মিষ্টি স্বাদের জনপ্রিয় দেশি ফল আমড়া। কাঁচা আমড়া কাঁচা তো খাওয়া যায়-ই, আবার রান্না করেও খাওয়া যায়। পাকা আমড়াও আচার, মোরব্বা, সালাদ, চাটনি তৈরিতে ব্যবহার হয়। মুখরোচক ফল হিসেবে একটি আমড়ায় প্রায় তিনটি আপেলের সমান পুষ্টি থাকে।