• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬

ক্ষুদিরাম: হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে

ক্ষুদিরাম: হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে

ফিচার ডেস্ক০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৫৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ক্ষুদিরাম বসু, ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম বিপ্লবী সৈনিক। ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার ফাঁসি হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৮ মাস ৮ দিন।

তাকে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী বলা হয়।

ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থানার অন্তর্গত মোহবনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নাড়াজোল প্রদেশের একজন তসিলদার ছিলেন।

বাবা ত্রৈলক্যনাথ এবং মা লক্ষী দেবীর ঘরে তিন মেয়ে সন্তানের পর একমাত্র ছেলে সন্তান ক্ষুদিরাম। তার আরও দুজন ভাই জন্মের পর মারা গিয়েছিল। তাই ক্ষুদিরামকে নিয়েও বাবা-মায়ের দুঃশ্চিন্তা বেড়ে যায়। ফলে মাত্র তিন মুঠি খুদের (শস্যের খুদ) বিনিময়ে তাকে তার বড় বোনের কাছে বিক্রি (প্রতীকি বিক্রি) করে দেন তার বাবা-মা। সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় ক্ষুদিরাম।

মাত্র ছয় বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম তার মাকে হারান। এর এক বছর পরই মারা যান তার বাবা। অসহায় ক্ষুদিরামকে তখন নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন বড় বোন অপরূপা। সেই থেকে তিনি বোনের কাছে বড় হন।

১৯০৪ সালে বোনের স্বামী অমৃত লালা রায় তাকে মেদেনীপুরে তামলুক হ্যামিল্টন হাই স্কুলে ভর্তি করে দেন।

কিশোর বয়সে ক্ষুদিরাম কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন। তিনি তার শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বোসের নিকট হতে এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতা পড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে অনুপ্রাণিত হন।

১৯০২-১৯০৩ সালে বিপ্লবী নেতা শ্রী অরবিন্দ ও সিস্টার-নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করেন এবং জনসম্মুখে বৃটিশবিরোধী বক্তব্য রাখেন। সেখানকার স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী দলগুলোর সাথে বেশ কিছু গোপন বৈঠক করেন তারা।

তাদের উৎসাহে ক্ষুদিরাম বিপ্লবে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন এবং কিশোর বয়সেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অচিরেই তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন এবং কলকাতার বিপ্লবী নেতা বারীন্দ্র ঘোষের সংস্পর্শে আসেন।

পরে আরেক বিপ্লবী দল “যুগান্তর”এ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন ক্ষুদিরাম। এ সময় “সোনার বাংলা” শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করতে গিয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি গ্রেপ্তার হন।

ভারতের স্বাধীনতার দাবিতে কিশোর বয়সেই হাতে নিয়েছেন অস্ত্র। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন জায়গায় বোমা পুতে রাখতে অংশ নেন।

১৯০৭ সালে আরেক বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস কানুনগো প্যারিসে নির্বাসিত রাশিয়ান বিপ্লবী নিকোলাস সাফারস্কি এর কাছ থেকে বোমা বানানো শিখে আসেন।

এ সময় আলিপুরের প্রেসিডেন্সি কোর্টের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড এর আদালতে অনুশীলন সমিতির বেশ কয়েকজন বিপ্লবীর বিচার চলছিল। তাই বিপ্লবী হেমচন্দ্র দাস ও বারীন্দ্র ঘোষ কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

১৯০৮ সালের মার্চ মাসে কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি আলীপুর থেকে মোজাফফরপুরে স্থানান্তর হন।

সেখানে ১৯০৮ সালের ৩ এপ্রিল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন।

তারা কিংসফোর্ডের গাড়ি লক্ষ্য করে হেমচন্দ্রের বানানো ৬ আউন্স ওজনের বোমা নিক্ষেপ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেদিন কিংসফোর্ড গাড়িতে ছিলেন না। ফলে গাড়িতে থাকা অন্য দুজন ব্রিটিশ নারী মারা যান।

এ সময় ব্রিটিশদের কাছে ধরা না দিতে আত্মহত্যা করেন প্রফুল্ল চাকি। তবে ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে যান।

বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অথচ বয়সে তিনি ছিলেন একজন কিশোর মাত্র।

তাই ব্রিটিশ বিচারক কর্নডফ ক্ষুদিরামকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাঁসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা? উত্তরে ক্ষুদিরাম মুচকি হাসেন। বিচারক পুনরায় একই প্রশ্ন করলে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন।

১১ আগস্ট ১৯০৮, ভোর ছয়টা। ফাঁসির মঞ্চে উঠছেন নির্ভীক, অকুতোভয় ক্ষুদিরাম। তার মধ্যে নেই কোন মৃত্যু ভয়। অবশেষে হাসিমুখে বরণ করে নিলেন শহীদি মৃত্যু।

তার মৃত্যুতে বিপ্লবী চেতনায় জেগে ওঠে হাজারো তরুণ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হয়ে ওঠে আরও বেগবান। তিনি হয়ে গেলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম পথিকৃৎ।

তাই বলা যায়, ক্ষুদিরাম মরে যায়নি। ক্ষুদিরামরা মরতে পারে না। যুগ যুগ ধরে মুক্তিকামী জনতার হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে একটি নাম- ক্ষুদিরাম।

 

ইন্টারনেট অবলম্বনে লিখেছেন এনামুল হক।

 

৬৮ হাজার গৃহহীন পরিবার পাবে সরকারি বাড়ি

৬৮ হাজার গৃহহীন পরিবার পাবে সরকারি বাড়ি

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ৬৮ হাজার ৩৮টি গ্রামে একটি করে দুস্থ

‘এক-দুই সন্তান নীতি’ প্রত্যাশা ও প্রভাব

‘এক-দুই সন্তান নীতি’ প্রত্যাশা ও প্রভাব

চীনের one-child policy (এক সন্তান নীতি) সম্পর্কে আমরা মোটামুটি সবাই

শুধু গ্রীষ্মে নয়, পানি শূন্যতা হতে পারে শীতেও

শুধু গ্রীষ্মে নয়, পানি শূন্যতা হতে পারে শীতেও

শরীরে পানিশূন্যতা বা পানির স্বল্পতাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ডিহাইড্রেশন। একজন

স্বাস্থ্য

পিরিয়ড চলাকালে যা খাবেন আর যা এড়িয়ে চলবেন

পিরিয়ড চলাকালে যা খাবেন আর যা এড়িয়ে চলবেন

মাসিক ঋতুস্রাব নারীদের জীবনের অংশ। তাই এ বিষয়ে লজ্জা বা জড়তা কাটিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা খুব জরুরী। এই ঋতুস্রাবের সময় অনেকের নানারকম অস্বস্তিকর উপসর্গ দেখা দেয়। কিছু খাবার আছে এই উপসর্গগুলি হ্রাস করতে পারে, আবার অন্য কিছু খাবার উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে- পেটে ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, অবসাদ, মাথা ঘুরানো, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া প্রভৃতি।

রাজনীতি

তাবিথের প্রচারে হামলার অভিযোগ

তাবিথের প্রচারে হামলার অভিযোগ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজনীতি

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক আর নেই

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক আর নেই

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের বর্তমান সাংসদ ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

অর্থনীতি

৩২৯ উপজেলায় নির্মাণ হবে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ

৩২৯ উপজেলায় নির্মাণ হবে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ

দেশের ৩২৯টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে। চলতি মাস থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান।

জাতীয়

চীনে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস : বাংলাদেশেও সতর্কতা   

চীনে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস : বাংলাদেশেও সতর্কতা  

চীনে উদ্ভূত আলোচিত ‘করোনাভাইরাস’ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ থেকে মানুষের মাঝে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে চীনের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এদিকে ‘করোনাভাইরাস’ আতঙ্কে বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলোতে আগত চীনা নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

বিনোদন

হিনা খানের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিওসহ)

হিনা খানের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিওসহ)

ভারতের অভিনেত্রী হিনা খান। সম্প্রতি তার একটি গোপন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তার ব্যক্তিগত অনেক কিছু সামনে চলে এসেছে।