• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

নেহরু: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ

নেহরু: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ

ফিচার ডেস্ক১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৫পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

জওহরলাল নেহরু, ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ। তিনি ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (১৯৬৪ সাল) তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৮৮৯ সালে বৃটিশ ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন নেহরু। তবে লেখাপড়া করেছেন ইংল্যান্ডে।

ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে আইন বিষয়ে পড়া শেষ করে ১৯১২ সালে ভারতে ফিরে আসেন নেহরু।

ভারতে ফিরেই আইন পেশায় নিযুক্ত হন এবং ১৯১৬ সালে কমলা কাউলকে বিয়ে করেন। তার একমাত্র মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী, যিনি পরে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

১৯১৯ সালে অমৃতসার হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। তখন নেহরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন।

স্বাধীনতার দাবিতে অহিংস আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে অভিমানী মহাত্মা গান্ধী আন্দোলন থেকে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক তখনই ভারতের স্বাধীনতা আন্দলনের হাল ধরেন নেহরু।

নেহরু ১৯২৭ সালে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি জানান বৃটিশ সরকারের কাছে। কিন্তু বৃটিশ সরকার তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

এর ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান নেতা হিসেবে নেহরু ১৯২৯ সালে ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

নেহরু ঘোষণা করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা, ভারতের জনগণের অবিচ্ছেদ্য দাবি....যেকোন সরকার ভারতীয় জনগণকে তাদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে জনগণ তা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবে।’

ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি মহাত্মা গান্ধীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন এবং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক উদীয়মান তারকা হিসেবে আবির্ভূত হন।

১৯২০-৩০ সাল পর্যন্ত চলমান অসহযোগ আন্দোলনগুলোতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়েছিল তাকে।

এ সময় আন্দোলনের নেতৃত্বে গান্ধী থাকলেও কার্যত নেতা ছিলেন নেহরু।

ত্রিশের দশকে তিনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সাথে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের ধরন নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে তিনি আলাদা হয়ে যান।

১৯৪২ সালে গান্ধীর “ভারত ছাড় আন্দোলনে” যোগ দেন নেহরু।

এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথমে বৃটিশদের সহযোগিতার পক্ষে ছিলেন তিনি। কিন্তু বৃটিশরা আদৌ ভারত ছাড়বে কি না এ নিয়ে তার সন্দেহ হলে তিনি বৃটিশদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাখ্যান করেন।

এতে বৃটিশরা ক্ষেপে গিয়ে ১৯৪২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।

জেল থেকে মুক্ত হয়ে নেহরু দেখলেন যে, তার অনুপস্থিতিতে জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে চলে গেছে।

তখন মুসলিম লীগের দাবি অনুযায়ী ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড মাউন্টবেটেন ভারত ভাগ করে দুটি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন।

নেহরু ভারত ভাগের কঠোর বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে লর্ড মাউন্টবেটেনের চাপের মুখে তিনি ভারত ভাগ প্রশ্নে সায় দেন।

অবশেষে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ করে “ভারত” ও “পাকিস্থান” নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

এ সময় ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার দিনে জাতির উদ্দেশ্যে “ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি” শীর্ষক ভাষণ দেন নেহরু।

একটি অসাম্প্রদায়িক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন নেহরু। কিন্তু কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড তার সেই স্বপ্নকে ম্লান করে দিয়েছিল, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

স্বাধীনতার পর পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন নেহরু। তিনি একটি উদার গণতান্ত্রিক ভারত প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।

১৯৫০ সালে তিনি সর্বজনীন অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রণীত ভারতের সংবিধানে সই করেন।

তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি ফেবিয়ান সমাজতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন। তিনি সমাজের সর্বস্তরে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন। তাছাড়া মার্কসবাদের প্রতিও তার অনুরাগ ছিল।

তিনি শিশুদের জন্য সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।

একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু হলেও তিনি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন। জাত প্রথার অবসান ও নারীর উন্নয়নে তিনি কাজ করেছেন।

বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে তিনি সবসময় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে সমর্থন করেছিলেন। তিনি ভারতকে স্নায়ুযুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রেখেছিলেন।

রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিরোধীদলের প্রতি ছিলেন সংবেদনশীল। তিনি প্রতিপক্ষের কথা শুনতেন এবং তাদের দাবিগুলো বোঝার চেষ্টা করতেন।

১৯৪৯ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে তিনি বলেন, “কেবল ভারতের জন্যই নয়, বিশ্বের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য”।

১৯৬৪ সালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এই প্রবাদ পুরুষ মারা যান।

 

সিগন্যালে ত্রুটির কারণে সিরাজগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনা হতে পারে: রেল সচিব

সিগন্যালে ত্রুটির কারণে সিরাজগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনা হতে পারে: রেল সচিব

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব

১০টা খুন করলেও আমার এমন সাজা হত না: ওসি মোয়াজ্জেম

১০টা খুন করলেও আমার এমন সাজা হত না: ওসি মোয়াজ্জেম

ফেনীর সোনাগাজীর থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বৃহস্পতিবার আদালতে বলেছেন,

উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেসের ৭ বগি লাইনচ্যুত, আগুন

উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেসের ৭ বগি লাইনচ্যুত, আগুন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও সাত বগি লাইনচ্যুত

আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গা নিপীড়নে এবার সুচির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা

রোহিঙ্গা নিপীড়নে এবার সুচির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের অভিযোগে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর (কার্যত সরকার প্রধান) অং সান সুচি ও দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার এই মামলা দায়ের করে রোহিঙ্গা ও লাতিন আমেরিকান কিছু মানবাধিকার সংগঠন। রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগে এই প্রথম সুচির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলো।

জাতীয়

ইট দিয়ে কলেজছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দিল বখাটে তরুণ

ইট দিয়ে কলেজছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দিল বখাটে তরুণ

শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তারের ওপর হামলা চালিয়ে (১৯) পাঁচটি দাঁত ভেঙে দিয়েছে এক বখাটে তরুণ। বুধবার বিকালে এই ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। খাদিজা ওই কলেজের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি সদর উপজেলার চর কোয়ারপুর গ্রামের আবুল কালাম ঢালীর মেয়ে। আর অভিযুক্ত আজমির উল্লাহ (১৮) একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামের শাহ আলম খানের ছেলে।

জাতীয়

যুদ্ধাপরাধীদের নামে থাকা পাঁচ কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত   

যুদ্ধাপরাধীদের নামে থাকা পাঁচ কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত  

যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত পাঁচটি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয়

ক্ষুদ্র ঋণে কেউ কেউ যশ-নাম কামালেও জনগণ সুফল পায়নি: প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুদ্র ঋণে কেউ কেউ যশ-নাম কামালেও জনগণ সুফল পায়নি: প্রধানমন্ত্রী

দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যর্থ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক সময় আমরা দেখেছি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে (কর্মসূচি) কেউ কেউ খুব বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক সময় আমরাও এটাকে সমর্থন দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম যে এর মাধ্যমে বুঝি মানুষ দরিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবে। কিন্তু যখন আমরা বিষয়টা আরো গভীরভাবে দেখলাম, তাতে দেখলাম, আসলে এর মাধ্যমে দারিদ্র ঠিক বিমোচন হয় না। দারিদ্র লালন-পালন হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ‘উন্নয়ন মেলা ২০১৯’শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয়

গাজীপুরে বাসচাপায় বাবা-মেয়েসহ নিহত ৩

গাজীপুরে বাসচাপায় বাবা-মেয়েসহ নিহত ৩

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শনিবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে উপজেলার বীরউজলী এলাকায় বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিনোদন

ফের ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন বুবলী

ফের ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন বুবলী

চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। বহুদিন ধরে কাজ নেই তার। একধরণের অবসর সময় কাটিয়েছেন তিনি। সবশেষ ঈদুল আজহায় দর্শকপ্রিয় নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিতে অভিনয় করেন এই নায়িকা।