আফগান বাহিনীর হামলায় ১৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত: দাবি কাবুলের

আফগানিস্তানের কাবুল এবং পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে আফগান বাহিনী। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতভর হেলমান্দ, কান্দাহার, জাবুল, পাকতিকা, পাকতিয়া, খোস্ত, নাঙ্গারহার এবং কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি চেকপোস্ট লক্ষ্য করে আক্রমণ করে তালেবান। হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ১৫ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কাবুল।

আফগানিস্থানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানায় মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি। তবে এ বিষয়ে ইসলামাবাদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রোববার তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বাহিনী সীমান্তে প্রতিশোধমূলক এবং সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদি প্রতিপক্ষ পক্ষ আবারও আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে আবারও কঠোর জবাব দেয়া হবে।’


মন্ত্রণালয় দাবি করে ‘প্রতিশোধ অভিযানে’ তিনটি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি দখল করেছে আফগান বাহিনী, যার ফলে দক্ষিণ হেলমান্দ প্রদেশের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ১৫ সেনা নিহত হয়েছে।

পাকিস্তান আগে থেকেই আফগান কর্তৃপক্ষকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্যদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ করে আসছে। ইসলামাবাদ বলেছে, এই গোষ্ঠীটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মারাত্মক হামলা চালায়। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আফগান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিত্রাল, বাজাউর, মোহমান্দ, আঙ্গুর আড্ডা এবং কুর্রাম জেলাসহ বেশ কয়েকটি উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় গুলি চালিয়েছে। কর্মকর্তা আরও বলেন, খাইবার জেলার তিরাহের কাছে এবং আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশের সীমান্তের ওপারে ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে জবাবও দিয়েছে তাদের সেনারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আফগানিস্তানের দিক থেকে ছোড়া একটি মর্টার শেল কুর্রাম জেলার তিরি গ্রামে পড়ে কমপক্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের দাবি, তালেবান বাহিনীর সীমান্ত চৌকিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে ১৯টি চেকপোস্ট দখল এবং বহু চেকপোস্ট ধ্বংস করেছে তাদের বাহিনী। রাতভর এ হামলায় কয়েক ডজন তালেবান ও সশস্ত্র বন্দুকধারী নিহতও হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো।

এবি/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
আসেন ওস্তাদ, আসেন: ছেলেকে উদ্দেশ্য করে মোহাম্মাদ নবি Jan 12, 2026
img

স্প্যানিশ সুপার কাপ

রোমাঞ্চকর এল ক্লাসিকোতে রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা Jan 12, 2026
img

এফএ কাপ

ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় ম্যানইউর Jan 12, 2026
img
শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান শ্রীলঙ্কার Jan 12, 2026
img
নির্বাচন ও গণভোটের বার্তা নিয়ে কুমিল্লা-৫ আসনে ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’ Jan 12, 2026
img
ফের মাগুরা উপনির্বাচনের ভুল কেউ করবে বলে মনে হয় না : রুমিন ফারহানা Jan 12, 2026
img
ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানি পাঁচ শতাধিক : মানবাধিকার সংস্থা Jan 12, 2026
img
আবারও পেছাল ব্রাকসু নির্বাচন Jan 12, 2026
img
ফাঁস হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি S26 আল্ট্রার ডিজাইন: থাকছে বড় পরিবর্তন ও নতুন লুক Jan 12, 2026
img
বিক্ষোভকারীদের অনেকেই বিদেশি এজেন্টদের দ্বারা প্রশিক্ষিত : ইরান Jan 12, 2026
img
প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ প্রকাশ Jan 12, 2026
img
ছোট ভাই জন রুনির সাফল্যে আবেগাপ্লুত রুনি Jan 12, 2026
img
কৃতীর বোনের জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথি কারা? Jan 12, 2026
img
৬ দিন বন্ধ থাকার পর যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু Jan 12, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাৎ Jan 12, 2026
img
দেশের ১৩ জেলায় শীত নিয়ে বড় দুঃসংবাদ Jan 12, 2026
img
আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও মাতৃভূমি রক্ষায় প্রস্তুত : কিউবার প্রেসিডেন্ট Jan 12, 2026
img
ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের কথা ভাবছেন ট্রাম্প Jan 12, 2026
img
আমার দলের কেউ দুর্নীতি করলে তাকে জেলে পচতে হবে : শামা ওবায়েদ Jan 12, 2026
img
জনগণের অধিকার রক্ষায় আজীবন লড়াইয়ের অঙ্গীকার ইশরাকের Jan 12, 2026