আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও চাঙ্গা। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে এমন প্রত্যাশায় শুক্রবার স্পট গোল্ড দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠেছে। একই সঙ্গে রুপা ছুঁয়েছে নতুন রেকর্ড।
শুক্রবার স্পট গোল্ড ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১০.৯৪ ডলারে লেনদেন হয়, যা ১৩ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ এবং পুরো মাসে বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এটি হবে টানা চতুর্থ মাসের মূল্যবৃদ্ধি।
অন্যদিকে রুপার বাজারে তীব্র উত্তাপ। ধাতুটি দিনে ৬.১ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড ৫৬.৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। মাসজুড়ে এর বৃদ্ধি ১৬.৬ শতাংশ।
এর আগে সিএমই গ্রুপের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কয়েক ঘণ্টা ফিউচার ও মুদ্রাবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেডিং পুনরায় শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২৫৪.৯ ডলারে স্থির হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধীর গতির দিকে যাচ্ছে এবং ফেড সুদের হার কমাতে আরও আগ্রহী হচ্ছে। টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি কৌশল বিভাগীয় প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, কম সুদের পরিবেশ স্বর্ণের জন্য অনুকূল। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা আবারও গোল্ডে ফিরছে।
ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার ও নিউ ইয়র্ক ফেড প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামসের সাম্প্রতিক নরম মন্তব্য এবং দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর ডিসেম্বরেই হার কমানোর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল মাত্র ৫০ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, রুপার টেকনিক্যাল চার্টও এখন শক্তিশালী, যা নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
উচ্চ দামের কারণে এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে এই সপ্তাহে স্বর্ণের খুচরা চাহিদা কমেছে। ভারতের বিয়ের মৌসুম শুরু হলেও ক্রেতারা সীমিত। চীনে স্বর্ণ কেনাকাটায় কর ছাড় বাতিল হওয়ায় ভোক্তাদের আগ্রহ আরও কমে গেছে।
ধাতু বাজারে প্লাটিনাম ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৭২.৫০ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ০.৮ শতাংশ বেড়ে শতাংশ ১ হাজার ৪৫০.১৬ ডলারে লেনদেন হয়।
বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা।
এমকে/টিএ