২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঠিক এক নীরব রবিবার সকালেই সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আগের রাতে ম্যাথিউ পেরি প্রয়াত হয়েছেন। মনে হল চ্যান্ডলারের জীবনের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা বাস্তবে রূপ নিল।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিসকভারি প্লাসে মুক্তি পাচ্ছে তথ্যচিত্র ‘ম্যাথিউ পেরি: অ্যা হলিউড ট্রাজেডি’। ‘ফ্রেন্ডস’ তারকা ম্যাথিউ পেরির জীবন ও মৃত্যুর অজানা দিক তুলে ধরা হয়েছে এই তথ্যচিত্রে।
রবার্ট পালুম্বো পরিচালিত এক ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রে ম্যাথিউ পেরির খ্যাতির শীর্ষে ওঠা, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই, পাশে থাকা সত্যিকারের বন্ধুদের ভূমিকা। আবার সেই সব মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা যারা তার দুর্বলতাকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছিল। পেরি নিজেই যেটিকে ‘ভয়ঙ্কর জিনিস’ বলেছিলেন সেই মাদকই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নেয়। সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে অবৈধ কেটামিন সরবরাহের একটি চক্র।
এই তথ্যচিত্রে হলিউড তারকা, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বক্তব্যের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে ঝলমলে আলো আর খ্যাতির মাঝেও কীভাবে ম্যাথিউ পেরি ডুবে ছিলেন অন্ধকারে।
ডকুমেন্টারির শুরুতেই এক প্রশ্ন তোলা হয়, ‘ম্যাথিউ পেরির মৃত্যু কি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না অতিরিক্ত মাত্রার ফল?’ বিভিন্ন সময়রেখা ধরে এগিয়ে যায় গল্প। উঠে আসে তার শৈশব ও ১৬ বছর বয়সে মদের প্রথম স্বাদ নেয়ার কথা যা তার মানসিক অশান্তি দূর করত।
ডকুমেন্টারিতে ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের পুরো কাস্টের এক পুরোনো ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। পর্দার বাইরেও তাদের বন্ধুত্ব ছিল গভীর। বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, মাদকাসক্ত মুক্তির প্রোগ্রামে যাওয়া ও বারবার ভেঙে পড়া পেরির এই সংগ্রাম তার বন্ধুদেরও কষ্ট দিত।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর এক নীরব রবিবার সকালেই হারিয়ে যান ম্যাথিউ পেরি। তথ্যচিত্রটি আরও ভয়ংকর মোড় নেয় যখন কেটামিন ওভারডোজে তার মৃত্যুর পেছনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র সামনে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাথিউ পেরির ব্যক্তিগত সহকারী কেনেথ ইওয়ামাসা কীভাবে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ডা. মার্ক চ্যাভেজ ও ডা. সালভাদর প্লাসেন্সিয়ার কাছ থেকে কেটামিন সংগ্রহ করতেন। ডিপ্রেশন ও উদ্বেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় কেটামিন।
ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মৃত্যুর দিন ইওয়ামাসা ম্যাথিউ পেরিকে একাধিকবার কেটামিন ইনজেকশন দেন এবং বাইরে চলে যান। ফিরে এসে তিনি অভিনেতাকে হট টাবে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়ির হট টাবে কেটামিনের অতিরিক্ত মাত্রার কারণে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পেছনের ভয়াবহ সত্য এই ডকুমেন্টারিকে নিয়ে যায় একেবারে ভিন্ন উচ্চতায়। এই তথ্যচিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরে খ্যাতি কতটা নির্মম হতে পারে। লাখো মানুষের ভালোবাসার মাঝেও একজন মানুষ কতটা একা হয়ে পড়তে পারেন।
ম্যাথিউ পেরির জীবন হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক যোদ্ধার গল্প । হয়তো জীবনে নয়, মৃত্যুতেই ম্যাথিউ পেরি খুঁজে পেয়েছেন চিরন্তন শান্তি।
এসকে/এসএন