বলিউডে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে বহুদিন ধরেই উচ্চারিত হয় একটি নাম হৃতিক রোশন। বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও তাঁর চেহারার ঔজ্জ্বল্য, ফিটনেস ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে এখনও অনুরাগীদের আগ্রহের শেষ নেই। কেউ বলেন উত্তর ভারতীয় জিনের প্রভাব, কেউ আবার তাঁকে ডাকেন গ্রিক দেবতার উপমায়। তবে এবার নিজেই নিজের সৌন্দর্যের রহস্য ফাঁস করলেন হৃতিক, আর সেই রহস্যের কেন্দ্রে উঠে এল বাঙালিয়ানার গল্প।
সম্প্রতি পরিবারের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে নানা সাজে ধরা দেন হৃতিক। ফিউশন পোশাক, ঢিলেঢালা পাজামা আর সাবলীল উপস্থিতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। সেই অনুষ্ঠান থেকেই সমাজমাধ্যমে কিছু ছবি ভাগ করে নিয়ে হৃতিক লেখেন, তাঁর শরীরে বইছে পঁচিশ শতাংশ বাঙালি রক্ত। আর সেই কারণেই নাকি তাঁর এই ঔজ্জ্বল্য। সঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন বাঙালি মাছের ঝোলের কথাও।
এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয় বলিউডের এই সুপারস্টারের সঙ্গে বাঙালিয়ানার যোগ কোথায়। জানা যায়, হৃতিকের ঠাকুরমা ইরা মৈত্র ছিলেন বাঙালি গায়িকা। দিল্লির এক রেডিয়ো সংস্থায় কাজ করার সময় রোশনলাল নাগরথের সঙ্গে তাঁর আলাপ। সেই আলাপ ধীরে ধীরে পরিণত হয় গভীর সম্পর্কে। সমাজ ও কর্মজীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ইরার সঙ্গেই সংসার বাঁধেন রোশনলাল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই সম্পর্ক অটুট ছিল।
হৃতিকের এই পারিবারিক ইতিহাসই তাঁর বাঙালি যোগের মূল সূত্র। তাই অভিনেতার মতে, তাঁর সৌন্দর্য বা ব্যক্তিত্বের পেছনে শুধু জিনগত নয়, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারও রয়েছে। বাঙালি ঘরানা, খাদ্যাভ্যাস আর শিল্পীসত্তার প্রভাব তাঁর জীবনে আজও প্রবাহমান।
একদিকে বলিউডের গ্ল্যামার, অন্যদিকে বাঙালি শিকড় এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে হৃতিক রোশনের অনন্য ব্যক্তিত্ব। আর সেই গল্প নিজ মুখে বলেই যেন নতুন করে দর্শকদের কাছে আরও আপন হয়ে উঠলেন এই তারকা।
আরপি/টিএ