গুঞ্জনের ছড়াছড়ি আর জল্পনার ওড়াউড়িতে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। তবে পেপ গুয়ার্দিওলা এখনও প্রাণভরে তাজা শ্বাস নিতেই পারছেন। চারপাশের আলোচনাকে যে তিনি আমলে নিচ্ছেন না! তার মতে, এন্টসো মারেস্কার বিদায়ে অসাধারণ একজনকে হারাল চেলসি। কিন্তু সেই বিদায়ের সঙ্গে তার ভবিষ্যতের কোনো সম্পর্ক নেই। ম্যানচেস্টার সিটিতেই চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে চান তিনি।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে খবরের পর খবর আসছে, চেলসিতে মারেস্কার অধ্যায় শেষের পেছনে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সংযোগের সম্পর্ক আছে।
নতুন বছরের প্রথম দিনটিতেই চেলসি জানায়, মারেস্কা আর দলটির কোচের দায়িত্বে নেই। সম্পর্কচ্ছেদের ধরন নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি ক্লাবের বিবৃতিতে। তবে সেটাকে ‘বরখাস্ত’ বলেই ধরে নেওয়া যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে সেটিই।
টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুনে মারেস্কাকে দায়িত্ব দেয় চেলসি। তার কোচিংয়ে গত মৌসুমে চতুর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেয় ক্লাব। এছাড়াও কনফারেন্স ট্রফি জয় করে তারা, চমকপ্রদ পারফরম্যান্সে জিতে নেয় বড় পরিসরের প্রথম ক্লাব বিশ্বকাপ।
এই নভেম্বরেও তিনি মাস-সেরা কোচের স্বীকৃতি পান। কিন্তু এরপরই চেলসির পারফরম্যান্সে ভাটার টান পড়ে। লিগে সাত ম্যাচের মধ্যে স্রেফ একটি জিতে শিরোপা লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে তারা। ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনও ছিল। দুই পক্ষের আলাদা হয়ে যাওয়াতেই সবকিছু সমাপ্তি।
তবে শুধু ক্লাবের পারফরম্যান্সের পড়তিই মারেস্কার বিদায়ের কারণ নয় বলে গুঞ্জন চলছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে। মাস দুয়েক ধরেই সিটির সঙ্গে মারেস্কার আলোচনা চলছে এবং গুয়ার্দিওলার পর তিনিই সিটির দায়িত্ব নেবেন, এমন খবর ভেসে বেড়াচ্ছে। এই আলোচনার খবর জানতে পেরেই নাকি ক্ষুব্ধ চেলসি ম্যানেজমেন্ট তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সেটিই যদি সত্যি হয়, তাহলে সিটিতে গুয়ার্দিওলার ভবিষ্যতও তো অনিশ্চিত! সেই প্রশ্ন সরাসরিই করা হলো তাকে। সিটির কোচ তাতে যেন মজাই পেলেন। কৌতূকের সুরেই জানিয়ে দিলেন তিনি নিজের ভাবনা।
“আমাকে বরখাস্ত করত চান? আমার বেতন তো অতি বেশি (হাসি)…! আরও এক বছর চুক্তি আছে আমার…।”
“ওহ, মাই গাড! চুক্তির মেয়াদ এখনও আছে আমার। হাজারবার, লাখোবার বলেছি। জানি, আমাকে এখানে দেখতে দেখতে আপনাদের একঘেয়ে লাগছে (হাসি)… ১০ বছর হয়ে গেছে। নিশ্চিত থাকতে পারেন, একদিন অবশ্যই ক্লাব ছেড়ে যাব আমি, কথা দিচ্ছি (হাসি)!।”
মারেস্কার বিদায়ে চেলসিরই ক্ষতি দেখছেন গুয়ার্দিওলা। পাশাপাশি এই ঘটনা দিয়ে নিজের অবস্থানকেও নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন সিটি কোচ।
“আমি কেবল যেটা বলতে পারি, আমার মতে, চেলসি একজন অবিশ্বাস্য ম্যানেজার, অবিশ্বাস্য এক মানুষকে হারাল। তবে এই সিদ্ধান্ত চেলসির দায়িত্বশীলদের, কাজেই আমার বলার কিছু নেই।”
“ফুটবলে? বিস্ময়? নাহ! অবাক হইনি। তবে এটা কেবল আরও একবার নিশ্চিত করল, এখন যে ক্লাবে আছি, সেখানে কতটা ভাগ্যবান আমি। আমার ক্লাব অনন্যসাধারণ।”
এই বছরই সিটির দায়িত্বে ১০ বছর পূর্ণ হবে গুয়ার্দিওলার। ক্লাবের ইতিহাসের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, টানা চারবারসহ ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ এবং সব মিলিয়ে ১৮টি ট্রফি তার কোচিংয়ে জিতেছে সিটি। ২০২৪ সালে ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেন তিনি, যেটির মেয়াদ আগামী মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।
৫৪ বছর বয়সী কোচ আরও একবার পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, এই ক্লাবে মেয়াদ শেষ করতে চান তিনি।
“আমার চুক্তির মেয়াদ আছে এবং আমি এখানে খুবই খুশি। আমার দল নিয়েই লড়াই করতে চাই। ক্লাবের দায়িত্বশীলরা আমাকে সম্মান করে। সেটার প্রমাণ হয়ে গেছে, যখন গত মৌসুমে তিন মাস কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি আমরা। তারা আমার পাশে থাকে। আমারও এখানে থাকতেই ভালো লাগছে।”
যে ক্লাব নিয়ে এত আলোচনা, সেই চেলসির সঙ্গেই রোববার প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির লড়াই। তবে প্রতিপক্ষের এখনও কোনো কোচ নেই বলে পরিকল্পনাও ভালোভাবে সাজাতে পারছেন না গুয়ার্দিওলা।
“প্রতিপক্ষ কেমন খেলতে পারে, সেটিই যখন জানি না, তখন খুব বেশি কথা বলতেও চাই না। কারণ জানি না তো, কোন ম্যানেজার থাকছে তাদের।”
“এখনও জানি না, কী করতে তারা। কাজেই কোনো ভাবনা এখনও নেই। আপাতত নিজেদের নিয়ে ভাবতে হবে, কী করতে পারি নিজেরা।
আরআই/টিএ