খালেদা জিয়া রাগে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন : রিজভী

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক সময় আবেগের বশে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলেছেন, পরে নিজেই তা সংশোধন করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, একবার আন্দোলনের সময় পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করলে রাগের মাথায় গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলেন খালেদা জিয়া। পরে তিনি নিজেই বলেন, এটি ঠিক হয়নি। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের একটি জেলা এবং তিনি একজন জাতীয় নেতা- এ উপলব্ধিই তার নেতৃত্বের গভীরতার প্রমাণ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সব সংকটে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এ জগতের সঙ্গে যার সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর ও আদর্শিক তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন হয়, যা আরও সুদৃঢ় করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির মুখপাত্র রিজভী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে বাকশাল আমলে যেভাবে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তা নজিরবিহীন ছিল। ওই সময় অসংখ্য মানুষ সাংবাদিকতা ও লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা হারান। শহীদ জিয়াউর রহমান সেই অবস্থা থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনেন এবং সংবাদপত্র ও মুক্তবাক্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করেন। বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নেন।

রিজভী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের আমন্ত্রণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেন, যা তার সাংবাদিকদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্কের প্রমাণ।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর মানুষের শোক, আবেগ ও ভালোবাসার এ বহিঃপ্রকাশ প্রমাণ করে সমাজের গভীরে তিনি কতটা প্রভাব রেখেছেন। তার জানাজার দিন মানুষের ঢল স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছিল, যা কোনোভাবেই সংগঠিত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলেছেন- ইমাম খোমেনির জানাজার পর এত বড় জানাজা আর দেখা যায়নি। সেদিন পুরো ঢাকা শহর যেন মানুষের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। এটি ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ।

জাতীয় নেতৃত্বের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ১/১১-এর পর দেশ দীর্ঘ এক ক্রান্তিকালের মধ্যদিয়ে গেছে। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের সময় বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিলেও ছাত্র-সেনা সংঘর্ষে কোনো পক্ষ নেননি, কারণ তার কাছে ছাত্র ও সেনাবাহিনী—উভয়ই সন্তানের মতো।

রিজভী অভিযোগ করেন, কারাগারে নেওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশ-বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের জন্য অটল ছিলেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপিকে বারবার দমন করেও ধ্বংস করা যায়নি। কারণ তিনি রাজনীতিকে নৈতিকতার উচ্চতায় তুলে ধরেছিলেন।

শোকসভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি রাশিদুল হক রাশেদসহ সাংবাদিক নেতারা।

পিএ/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ভেনেজুয়েলার ঘটনায় ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ Jan 07, 2026
img
মাদুরো আমার নাচ নকল করে: ট্রাম্পের নতুন অভিযোগ Jan 07, 2026
img
ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন গলফাররা Jan 07, 2026
img
আমি ভীষণ রকম অদ্ভুত: মেসি Jan 07, 2026
img
নিজেকে ছোট মনে করবেন না: এমা স্টোন Jan 07, 2026
img
মোংলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত Jan 07, 2026
img
একদিনে টিকিটবিহীন প্রায় ২ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা আদায় Jan 07, 2026
img
ভারতেই খেলতে হবে, আইসিসি এমন কথা বলেনি: বিসিবি সভাপতি Jan 07, 2026
img
শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে সাড়ে ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল চালু Jan 07, 2026
img
বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে দুবার ভাবিনি: মাধুরী দীক্ষিত Jan 07, 2026
img
ফিলিপাইনে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত Jan 07, 2026
img
সিলেটের ৬টি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের কার সম্পদ কত? Jan 07, 2026
img
ডিসেম্বরে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এলো সৌদি আরব থেকে Jan 07, 2026
img

ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা

জয়-পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ Jan 07, 2026
img
আমার চোখে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই সুন্দর: কেয়া পায়েল Jan 07, 2026
img
অংশীদারিত্ব চুক্তির শেষ দফার আলোচনায় বসছে ঢাকা-ব্রাসেলস Jan 07, 2026
img
সান্তোসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইমারের Jan 07, 2026
img
আরও বাড়বে শীতের তীব্রতা, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ Jan 07, 2026
img
ইরানে বিক্ষোভের ১০ দিনে প্রাণ গেল কমপক্ষে ৩৬ জনের Jan 07, 2026
img
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ১৭ কেন্দ্র বাতিল, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ Jan 07, 2026