বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎকারে ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ফুটবলে তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যাপারেও নিজের মনোভাব স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন।
তবে, ব্যক্তিগত জীবনের কথাগুলো সেভাবে কখনোই সামনে আসতে দেননি ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক। এবার একটি একটি দীর্ঘ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে মেসি বেশ স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, ঘরের দৈনন্দিন রুটিন, স্ত্রী আন্তোনেলা রকুজ্জোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রাণখুলে কথা বলেছেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি মজা করে বলেছেন, তিনি ‘ভীষণ রকম অদ্ভুত’ মানুষ।
লুজুর সঙ্গে আলাপকালে মেসি বলেন, ‘আমার এমন একটা দিক আছে, যেখানে আমি ভীষণ অদ্ভুত… আমি একা থাকতে খুব পছন্দ করি, একা থাকতেই স্বস্তি পাই। বাড়িতে তিনটা বাচ্চা যখন চারদিকে দৌড়াদৌড়ি করে, সেই বিশৃঙ্খলা শেষ পর্যন্ত আমাকে একটু চাপের মধ্যে ফেলে।’
সেই কথোপকথনে তিনি নিজের গোছানো স্বভাবের কথাও জানান এবং স্বীকার করেন- কিছু বিষয় তাকে সত্যিই পাগল করে দেয়। মেসির ভাষায়, ‘আন্তোনেলা (রকুজ্জো) হয়তো আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবে, তবে সবকিছু আমার মুডের ওপর নির্ভর করে। আমি খুবই গুছানো মানুষ; আমি যেটা করার কথা ভেবেছি, সেটা যদি বদলে যায়… ধরুন, দিনটা একটা নির্দিষ্টভাবে সাজানো, আর হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে- তাহলে সব এলোমেলো হয়ে যায়।’
নিজের এই ‘অবসেশন’-এর মাত্রা বোঝাতে গিয়ে মেসি জানান, তিনি কাপড় পর্যন্ত রঙ অনুযায়ী সাজান এবং ম্যাচের আগের দিন পরদিনের সবকিছু আগেই প্রস্তুত করে রাখেন। এই স্বভাব নাকি তার বড় ছেলে থিয়াগোর মধ্যেও চলে এসেছে। তবে ঘরোয়া শৃঙ্খলার বাইরে একটি কাজ আছে, যেখানে একেবারেই নিয়ম মানা হয় না- আর সেই কারণেই আন্তোনেলার কাছ থেকে এসেছে ‘নিষেধাজ্ঞা’।
ইন্টার মায়ামির এই তারকা হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমরা সারাদিনই বল নিয়ে থাকি, কিন্তু বাড়িতে খুব বেশি খেলতে দেয় না। বেশি এলোমেলো করা চলবে না। কখনও কখনও হয়তো একটু পাগলাটে খেলা খেলি, একে অপরের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান।’
এই হালকা মেজাজের কথাবার্তার পাশাপাশি মেসি তার রোমান্টিক দিকের কথাও জানান, যদিও তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে খুব বেশি আবেগের প্রকাশ তিনি করেন না।
তার ভাষায়, ‘আমি যত্নশীল। প্রতিদিনই ছোটখাটো কিছু উপহার দিতে ভালো লাগে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা আমার জন্য কঠিন, কিন্তু সত্যি কথা হলো- আমি যাদের ভালোবাসি, তাদের সবসময় খুশি দেখতে চাই। আন্তোনেলা আমার চেয়ে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। এমনকি আমরা কখনও কখনও তর্কও করি, কারণ আমার ঠান্ডা স্বভাবের কারণে সে নাকি আগের মতো প্রকাশভঙ্গি রাখে না। তবু আমি চাই- আমি যাদের ভালোবাসি, তারা যেন সবসময় সুখে থাকে।’