ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত জাহাজ টাইটানিক এবং জেমস ক্যামেরনের কালজয়ী সিনেমা 'টাইটানিক' এর মধ্যে একটি অবাক করা আর্থিক পার্থক্য রয়েছে যা শুনলে অনেকেই বিস্মিত হন।
১৯১২ সালে যখন আসল আরএমএস টাইটানিক জাহাজটি তৈরি করা হয়, তখন এর নির্মাণব্যয় ছিল প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার। অথচ ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া সেই জাহাজডুবির ঘটনার ওপর নির্মিত সিনেমাটি বানাতে খরচ হয়েছিল ২০০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, সংখ্যার বিচারে আসল জাহাজের চেয়ে সিনেমা তৈরির বাজেট ছিল প্রায় ২৬ গুণ বেশি।
হোয়াইট স্টার লাইন কোম্পানির তৈরি বিলাসবহুল এই জাহাজটি সেই সময়ের প্রকৌশলবিদ্যার এক বিস্ময় ছিল। ১৯০৯ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল, তা তৎকালীন সময়ের হিসেবে অনেক বড় অংক।
অন্যদিকে, জেমস ক্যামেরনের সিনেমাটি তৈরির সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশাল সেট নির্মাণ, স্পেশাল ইফেক্টস এবং দীর্ঘ শুটিংয়ের কারণে বাজেট প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স এবং প্যারামাউন্ট পিকচার্স যৌথভাবে এই বিপুল অর্থ লগ্নী করে, যা মুক্তির সময় ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমায় পরিণত হয়েছিল।
অবশ্য অর্থনীতিবিদদের মতে এই তুলনাটি মূলত সংখ্যাগত বা আক্ষরিক। কারণ ১৯১২ সালের মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে সেই ৭.৫ মিলিয়ন ডলারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছিই দাঁড়ায়।
তবুও ১৯১২ সালের সেই বিশাল লোহা-লক্করের সত্যিকারের জাহাজের চেয়ে নব্বইয়ের দশকের একটি সিনেমা তৈরির খরচ যে সংখ্যায় এত বেশি ছিল, তা আজও সাধারণ মানুষের কৌতূহলের বিষয়। উল্লেখ্য, ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হলেও সিনেমাটি মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে আয় করেছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা সব খরচের রেকর্ডকে ম্লান করে দিয়েছিল।
টিজে/টিএ