হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কাজে জড়িত থাকার জন্য তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এবার জানা গেল, ব্যক্তিগত জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন এই তারকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সী জোলি লস অ্যাঞ্জেলেসের লস ফেলিজ এলাকায় অবস্থিত তার সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বাড়িটি বিক্রি করে তিনি নিউইয়র্কসহ ইউরোপ ও কম্বোডিয়ায় থাকতে শুরু করবেন।
জোলি ২০১৭ সাল থেকে তার ছয় সন্তানকে নিয়ে লস ফেলিজের ঐতিহাসিক সেসিল বি. ডেমিল এস্টেটে বসবাস করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়িটি দেখানোও শুরু করেছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার নিউইয়র্কেও সময় কাটানোর কথা রয়েছে, কেননা সেখানে অভিনেত্রী তার সৃজনশীল কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করে থাকেন। সঙ্গে কম্বোডিয়াতেও অভিনেত্রী নিয়মিত অবস্থান করবেন। দেশটিতে ২০০৩ সালে একটি বাড়ি কিনে রেখেছেন ওয়ান্টেড খ্যাত এই তারকা।
এর আগে জোলি জানিয়েছিলেন, সাবেক স্বামী ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানদের স্বার্থেই তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে থেকে গেছেন। বহুল আলোচিত এই তারকা দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয় ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর।
জোলির দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে পরিচিত অভিনেতা ও প্রযোজক জে বেঞ্জামিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিনি এই জগত (শোবিজ) থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে পারবেন না। তাই বাইরে চলে যাওয়াই তার জন্য বিরতি নেওয়ার একমাত্র উপায়। ’ এছাড়াও জোলি ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পে মনোযোগ দিতে চান বলেও উল্লেখ করেন বেঞ্জামিন।
ব্র্যাড পিট-অ্যাঞ্জেলিনা জোলি দম্পতির মোট ছয় সন্তান রয়েছে- ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শিলো এবং দুই যমজ সন্তান নক্স ও ভিভিয়েন। ২০২৪ সালে দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি বলেছিলেন, ‘সন্তানদের কারণেই বিবাহবিচ্ছেদের পরও আমাকে এখানে (লস অ্যাঞ্জেলেস) থাকতে হয়েছে। তারা ১৮ বছর পূর্ণ করলেই আমি চলে যেতে পারব।’ তবে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেও জোলি ও পিট এখনো তাদের শ্যাটো মিরাভাল ওয়াইনারি সংক্রান্ত আইনি বিরোধে জড়িত রয়েছেন।
অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি একজন সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকও বটে। তিনি মানবিক কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের বিশেষ দূত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। মানবাধিকার, শিক্ষা ও নারী অধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
এবি/এসএন