লিটন কুমার দাসের ব্যাটের স্পন্সর এসজি (সানস্পাইরেলস গ্রিনল্যান্ডস)। এই কোম্পানীর কাছ থেকে পছন্দ মতো ব্যাট বানিয়ে নিতে পারতেন তিনি। আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল স্পন্সর লোগো ব্যবহার করে। লিটনের সেই আয় আর থাকছে না। এসজির স্টিকার থাকবে না তার ব্যাটে। কারণ ভারতীয় এই ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করছে না।
লিটনের মতো ইয়াসির আলী রাব্বি, মুমিনুল হকের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি নবায়ন করবে না বলে জানা গেছে। এই তিন ক্রিকেটারের এজেন্ট জানায়, এসজি চুক্তি নবায়ন করার পাকা কথা দিয়ে রেখেছিল। ক্রিকেটারদের এজেন্ট বলেছে, চুক্তি ‘বাতিল’ করার কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি এসজি কোম্পানিটি।
বাংলাদেশ-ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেটে ভালোই পড়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে মুস্তাফিজুর রহমানের মতো আন্তর্জাতিক বোলারকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দলে নেওয়া হয়েছিল তাকে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিলামে বাংলাদেশের সাতজন ক্রিকেটারকে রেখেছিল। সেখান থেকে কেবল মুস্তাফিজকে কিনে নেয় কেকেআর। তার মতো একজন ক্রিকেটারকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের মানুষ।
সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। দেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সোমবার। একই দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইমেইল করে। তার রেশ ধরে দুই দেশের ক্রিকেটে বয়কটের ঢেউ লেগেছে। ভারতীয় কোম্পানী স্পন্সর বাতিল বা চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগুণে ঘি ঢালার মতো। পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে ভারতীয় পণ্য বয়ক, টিভি চ্যানেলও বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত হতে পারে!
ব্যাটের স্পন্সর চুক্তি বাতিল বা নবায়ন না করার কারণ জানতে লিটন কুমার দাসকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক অবশ্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি লিটনের ব্যাটের স্পন্সর চুক্তি বাতিল করেছে এসজি। আমাকে এখনও কিছু বলেনি। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে জানতে পারব।’
দেশে ভারতের ক্রীড়া সামগ্রির বিরাট বাজার। ক্রিকেট, হকির খেলার সামগ্রী দেশটি থেকে আমদানি করা হয়। অল্প কিছু ক্রীড়া সামগ্রী আনা হয় পাকিস্তান থেকে। সম্প্রতি সিএ ব্যাটের বাজার প্রসারিত হয়েছে দেশে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এই ব্যাটের ব্যবসা করেন। লিটনদের চুক্তি নবায়ন না করায় নতুন করে প্রতিবাদের ঝড় উঠতে পারে বাংলাদেশ। এই আন্দোলন শেষে ভারত বয়কটের মতো সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
মুস্তাফিজ ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের খেলাধুলায় অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিসিবি কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালক বলেন,‘এটা ভালো কোনো লক্ষ্যণ না। পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে না ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গেও একই কাজ করার পরিকল্পনা করছে। ভারত চুক্তি বাতিল করলে স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প দেশের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন খেলোয়াড়রা। পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতে পারে।’
সিলেটে বিপিএল দলের সঙ্গে থাকা ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ এসজি ব্যাট দিয়ে খেলেন। লিটনদের স্পন্সর থেকে সরে গেলে ঢাকায় এসজি কোম্পানির ব্যাট বিক্রিতে ভাটা পড়তে পারে। এই জায়গা দখল নিতে পারে সিএ বা এমকেএস।
এমআই/এসএন